প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাবার মুখে খাবার তুলে দেওয়া সেই তুবা বদলে দিল অনিকের জীবন”
আর এ রাফি , উপজেলা প্রতিনিধি উজিরপুর (বরিশাল) ||
মেয়ের ভালোবাসায় বদলে গেল বাবার জীবন, পাশে থাকার আশ্বাস উজিরপুরের ইউএনও আলী সুজার
কয়েক দিন আগেও যাকে ঘিরে ছিল চোর কিংবা মাদকাসক্তের অপবাদ, আজ তার বাড়িতেই ভিড় করছেন শত শত মানুষ—সহানুভূতি ও আর্থিক সহায়তা নিয়ে।বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল এলাকার অনিক সরদারের পরিবারের জীবনে এই আকস্মিক পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি হৃদয়স্পর্শী ভিডিও।গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে বামরাইল এলাকায় চুরির চেষ্টাকালে গ্রামবাসী অনিক সরদারকে বেঁধে মারধর করেন। ওই দিন সকালে তার নয় বছর বয়সী মেয়ে তুবা হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বাবার মুখে খাবার তুলে দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই ভিডিওটি মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।এরই ধারাবাহিকতায় রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা অনিকের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর উপস্থিতি পরিবারটির মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।অনিকের স্ত্রী জান্নাতুল ফিরদাউস জানান, তিনি এইচএসসি পাস। তাঁদের দুই সন্তান—তুবা (৯) ও তুরিন ইসলাম তুনা (৩)। সংসারে আয়ের নির্দিষ্ট কোনো পথ নেই। অভাব-অনটনের মধ্যেই তাঁদের দিন কাটছে। সন্তানদের মানুষ করতে হলে স্বামীর কর্মসংস্থান কিংবা নিজের জন্য একটি চাকরির প্রয়োজন বলে জানান তিনি।জান্নাতুল ফিরদাউস বলেন, তাঁর স্বামী অনিক এখন অন্ধকারের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক ও সুন্দর জীবনে ফিরতে চান।অশ্রুসজল চোখে অনিক সরদার বলেন, ‘আমি ভালোভাবে জীবনযাপন করতে চাই। কেউ যদি আমাকে আয়-রোজগারের একটি পথ তৈরি করে দেন, আমি নিজেকে বদলে ফেলব।’ দুই মুঠো ডাল-ভাত খেয়ে হলেও সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য একটি চাকরির সুযোগ করে দিতে সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা বলেন, ‘বাবার প্রতি মেয়ের এই ভালোবাসা দেখেছে সারা বিশ্বের মানুষ।’ তিনি জানান, অনিক সরদার যদি সত্যিকার অর্থে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন, তাহলে সরকারি সহায়তার মাধ্যমে পরিবারটির পাশে দাঁড়াবে প্রশাসন।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত