প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬
টিআর প্রকল্পের টাকা ছাড়ে ‘অফিস খরচের’ অভিযোগ, কলাপাড়ায় ৩০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ
মো: জাকারিয়া হোসেন ||
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় টেস্ট রিলিফ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় একটি মসজিদের উন্নয়নকাজে বরাদ্দ করা তিন লাখ টাকা ছাড় করতে ১০ শতাংশ হারে ৩০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কার্যালয়ের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে চূড়ান্ত অর্থ ছাড়ের আগে স্ট্যাম্প ও হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের খরচের কথা বলে আরও ৩ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (সিপিসি) সভাপতি।অভিযোগকারী সিপিসি সভাপতি মোস্তফা জামান সুজনের দাবি, বরাদ্দের অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই তাকে বিভিন্ন খরচের কথা বলে অর্থ দিতে বলা হয়। একপর্যায়ে পিআইও কার্যালয়ের অফিস সহকারী মো. হাফিজুর রহমান মুঠোফোনে তাকে ডেকে নিয়ে বরাদ্দের ১০ শতাংশ অর্থাৎ ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ তাঁর।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেনের সুপারিশে টিআর কর্মসূচির আওতায় কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম হাজীপুর জামে মসজিদের নির্মাণকাজের জন্য তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া চলাকালে প্রথমে স্ট্যাম্প ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ের খরচের কথা বলে সিপিসি সভাপতির কাছ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর গত ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখে পিআইও কার্যালয়ের অফিস সহকারী মো. হাফিজুর রহমান মুঠোফোনে সিপিসি সভাপতি মোস্তফা জামান সুজনকে কার্যালয়ে যেতে বলেন। সেখানে বরাদ্দের ১০ শতাংশ, অর্থাৎ ৩০ হাজার টাকা ‘অফিস খরচ, অডিট, ভ্যাট ও আইটি’ বাবদ প্রয়োজন বলে দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।সিপিসি সভাপতি মোস্তফা জামান সুজন বলেন, ‘স্ট্যাম্প খরচের পর আবার ১০ শতাংশ পার্সেন্টেজ চাইলে আমি বিষয়টি সরাসরি পিআইও স্যারকে জানাই। কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে এড়িয়ে যান। আমাদের কাছে এ ঘটনার অডিও রেকর্ডসহ বেশ কিছু তথ্য-প্রমাণ জমা রয়েছে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অফিস সহকারী মো. হাফিজুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।তবে অভিযোগের বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মোকছেদুল আলম বলেন, অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে টাকা দাবির অভিযোগ ওঠার পর তাকে সতর্ক করা হয়েছে। তাঁর দাবি, বরাদ্দের টাকা থেকে কোনো পার্সেন্টেজ রাখা হয়নি এবং প্রকল্প কমিটিকে সম্পূর্ণ অর্থ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।এদিকে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি বা আইনানুগ কর্তনের বাইরে ‘অফিস খরচ’, ‘অডিট’, ভ্যাট কিংবা আইটি খরচের নামে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগটি সঠিক হলে সরকারি বরাদ্দের অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়ায় অননুমোদিত অর্থ লেনদেনের বিষয়টি সামনে আসে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।স্থানীয়দের অভিযোগ, কলাপাড়ায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ছাড়কে কেন্দ্র করে পিআইও কার্যালয়ের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ দাবি বা কমিশন নেওয়ার অভিযোগ এর আগেও শোনা গেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তাঁরা।সংশ্লিষ্টদের মতে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ করা অর্থ নির্ধারিত নিয়মে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে ছাড় করা জরুরি। কোনো সরকারি প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে অননুমোদিত অর্থ দাবির অভিযোগ উঠলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করে সত্যতা নিরূপণ করা প্রয়োজন। পশ্চিম হাজীপুর জামে মসজিদের প্রকল্পের অর্থ ছাড়কে ঘিরে ওঠা অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত