প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬
ভোট চুরির মাধ্যমে ভারতকে দখল করা হয়েছে, কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না
ডেক্স রিপোর্ট। ||
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’র মাধ্যমে ভারত ও দেশটির গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দখলের অভিযোগ করেছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। এ ঘটনায় জড়িত কেউ জবাবদিহি থেকে রেহাই পাবেন না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে বিরোধী দলগুলোর মিছিল আটকে দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাহুল গান্ধী। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি, অমিত শাহ ও মোহন ভাগবতকে সহযোগিতা করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করেছেন।রাহুল গান্ধীর দাবি, ‘ভোট চুরি’র মাধ্যমে ভারতের গণতন্ত্রকে দুর্বল করা হয়েছে। এ ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কেউই জবাবদিহি এড়িয়ে যেতে পারবেন না বলে জানান তিনি। বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ শব্দটিও ব্যবহার করেন।এদিন ভারতের বিরোধী জোটের প্রায় ৩০০ সংসদ সদস্য পার্লামেন্ট থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরের উদ্দেশে মিছিল বের করেন। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে ছিল প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ওঠা অভিযোগের ব্যাখ্যা। তবে দিল্লি পুলিশ নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের কাছাকাছি গিয়ে মিছিলটি আটকে দেয়। পরে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধী নেতা সেখানে অবস্থান নেন।পরে পুলিশ রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং আরও কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করে। কয়েক ঘণ্টা পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশের ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার স্বার্থেই তাদের আটক করা হয়েছিল।বিরোধীদের আন্দোলনের প্রধান বিষয় ভারতের ভোটার তালিকার ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা এসআইআর। কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ছে। এর ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে ভারতের সুপ্রিম কোর্টও বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জবাব চেয়েছে। বিশেষ করে ভোটার নিবন্ধনের ফর্ম-৬-এ পরিবর্তন আনার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য জানতে চেয়েছে আদালত। তবে নির্বাচন কমিশনের দাবি, মূল আইনগত ফর্মে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি; এসআইআর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অতিরিক্ত একটি ঘোষণা যুক্ত করা হয়েছিল।এর আগে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছিলেন, ভোটার তালিকা থেকে একজনের নামও বাদ দেওয়া হলে তিনি সেটিকে ‘ভোট চুরি’ হিসেবে বিবেচনা করেন। গত সপ্তাহে দিল্লির একটি বস্তি এলাকায় গিয়ে তিনি দাবি করেন, সেখানে ৭২৯ ভোটারের মধ্যে ৭২৮ জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এসব মানুষ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ওই এলাকায় বসবাস করলেও নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার নিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি রাহুল গান্ধীর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আইন অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে। কমিশনের তিন সদস্যের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলো আইনগতভাবেই কার্যকর রয়েছে। বিজেপিও বিরোধীদের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।এ পরিস্থিতিতে ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধীদের রাজনৈতিক বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। বিরোধীরা বিষয়টিকে ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই হিসেবে তুলে ধরছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপির দাবি, পুরো প্রক্রিয়াই আইনসম্মত। বিষয়টি বর্তমানে রাজনৈতিক আন্দোলনের পাশাপাশি আদালতের বিচারিক পর্যালোচনার মধ্যেও রয়েছে।
সূত্র: মুসলিম মিরর, রয়টার্স ও দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত