প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬
মনপুরা সরকারি কলেজে এইচএসসির ফল বিপর্যয়, ১৫৮ পরীক্ষার্থীর ১২৮ জনই অকৃতকার্য।
মামুন, ভোলা প্রতিনিধি ||
"বাণিজ্য বিভাগে পাস করেনি কেউ, শিক্ষক ও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার অভিযোগ"ভোলার মনপুরা সরকারি কলেজে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় ঘটেছে। এ বছর কলেজটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৫৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৩০ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ১২৮ জন। পাসের হার মাত্র ১৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ।বিভাগভিত্তিক ফলাফলে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করেছে মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থী। অন্যদিকে বাণিজ্য বিভাগ থেকে পাস করেনি একজন শিক্ষার্থীও। কলেজ প্রতিষ্ঠার পর এমন হতাশাজনক ফলাফল আগে কখনো হয়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।এমন ফলাফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মনপুরা সরকারি কলেজের অধিকাংশ শিক্ষক বহিরাগত হওয়ায় তাঁরা নিয়মিত কলেজে উপস্থিত থাকেন না। নিয়মিত ক্লাসের পরিবর্তে অনেক শিক্ষক রোটেশন পদ্ধতিতে পাঠদান করেন। ইন্টারমিডিয়েট ও ডিগ্রি শাখায় একই বিষয়ে একাধিক প্রভাষক থাকায় এক সপ্তাহ একজন এবং পরবর্তী সপ্তাহে অন্যজন ক্লাস নেন বলে অভিযোগ তাঁদের। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি কলেজে কার্যকর প্রশাসনিক তদারকি ও জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ভাস্কর চন্দ্র নন্দীর বিরুদ্ধেও দায়িত্ব পালনে অবহেলার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তাঁর কলেজে উপস্থিতি অনিয়মিত হয়ে পড়ে। রমজানের ছুটিতে বাড়িতে যাওয়ার পর কোরবানির ঈদের পর কলেজে এসেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার সময়ও তিনি কলেজে উপস্থিত ছিলেন না বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা। এমনকি ফলাফল বিপর্যয়ের পরও তাঁকে কলেজে পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে কলেজে যোগাযোগ করে জানা যায়, তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।এ ছাড়া কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক বাবু রসরাজের বিরুদ্ধেও দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিত কলেজে উপস্থিত না থেকে মাস শেষে বেতন উত্তোলনের সময় কলেজে আসেন এবং একই দিনে হাজিরা খাতায় পুরো মাসের স্বাক্ষর করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।শিক্ষক ও কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ এবং ফলাফল বিপর্যয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। তাঁদের আশঙ্কা, এ ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা অব্যাহত থাকলে কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।অভিভাবকদের দাবি, কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে অনিয়মিত শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, নিয়মিত ক্লাসের ব্যবস্থা করা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। একই সঙ্গে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত