প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬
পত্নীতলায় হানিট্র্যাপ চক্রের ২ তরুণীসহ গ্রেফতার ৪
মোঃ ওলিউল্লাহ , ব্যুরো প্রধান ||
ফেসবুক ও ইমো অ্যাপ ব্যবহার করে প্রেমের ফাঁদে ফেলা হতো যুবকদের। এরপর বাসায় ডেকে এনে মারধর, নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে আদায় করা হতো মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ। নওগাঁর পত্নীতলায় এমনই এক ভয়ংকর 'হানিট্র্যাপ' চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। অভিযানে দুই তরুণীসহ এই চক্রের সক্রিয় ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।গত ১৪ এপ্রিল রাতে পত্নীতলা থানার নজিপুর পৌরসভার সর্দারপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।অপরাধের অভিনব কৌশলপুলিশ জানায়, চক্রটি সর্দারপাড়া এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (ফেসবুক পেজ ও ইমো) ব্যবহার করে তারা প্রথমে টার্গেট করা ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করত। পরে কৌশলে তাদের ভাড়া বাসায় ডেকে এনে জিম্মি করা হতো। এরপর ভিকটিমদের মারধর করে জোরপূর্বক নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হতো। সেসব ছবি-ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আদায় করা হতো বড় অঙ্কের মুক্তিপণ।গ্রেফতারকৃতরা হলেন:১. মাহফুজুর রহমান বাঁধন (২৬), পিতা-মৃত আল হেলাল, সাং-পুইয়া, পত্নীতলা।২. মোঃ মমিনুর ইসলাম (২২), পিতা-মৃত কামরুজ্জামান, সাং-শিবপুর সরদার পাড়া, পত্নীতলা।৩. মোছাঃ রুমা খাতুন (২০), স্বামী-মোঃ শান্ত, সাং-হালাট্টী, জয়পুরহাট সদর।৪. মোছাঃ সাদিয়া আক্তার মায়া (১৯), স্বামী-মারুফ হাসান মুন্না, সাং-সুতরইল, পোরশা, নওগাঁ।পুলিশের বক্তব্য:নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। তারা বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে নিয়মিত এই অপকর্ম করে আসছিল। এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য পলাতক সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সাথে তিনি তরুণ সমাজকে এই ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফাঁদ বা 'হানিট্র্যাপ' থেকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।উল্লেখ্য, নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পত্নীতলা সার্কেল) এবং পত্নীতলা থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) নেতৃত্বে এই সফল অভিযানটি পরিচালিত হয়। এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত