প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬
কলাপাড়ায় ভেঙে পড়ল স্লুইস ও বেড়িবাঁধ, পানিবন্দি সাত গ্রামের হাজারো মানুষ
মোঃ জাকারিয়া হোসেন, মোঃ জাকারিয়া হোসেন ||
জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেল শত শত একর ফসলি জমি, ব্যাহত যোগাযোগ; দ্রুত সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীরপটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার আন্দারমানিক নদীর প্রবল স্রোতে সদরপুরের তিন ভেন্টবিশিষ্ট স্লুইস ও সংলগ্ন বেড়িবাঁধ ধসে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাত গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। স্লুইসটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ফলে প্রায় ৭০০ একর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে এবং বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় চার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, স্লুইস ধসে পড়ার কারণে সদরপুর, হাজীপুর, সোনাতলাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাজীপুর সেতু থেকে জালালপুর পর্যন্ত নির্মিত বেড়িবাঁধটি উপকূলীয় জনপদকে জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। বেড়িবাঁধের অভ্যন্তরের পানি নিষ্কাশনের জন্য সদরপুর এলাকায় তিন ভেন্টের একটি স্লুইস নির্মাণ করা হয়। তবে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে নদীর প্রবল পানির চাপে স্লুইসটি বেড়িবাঁধসহ ধসে পড়ে।স্লুইসটি ভেঙে যাওয়ার পর সোনাতলা নদীর জোয়ারের পানি আশপাশের এলাকায় ঢুকে পড়ে। এতে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, কৃষিজমি এবং মাছের ঘের প্লাবিত হয়েছে। অনেকের পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। পানি না নামায় দুর্ভোগ দিন দিন আরও বাড়ছে।সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দা রহিম উদ্দিন বলেন, “স্লুইসটি ভেঙে যাওয়ার পর পানি বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ঘরে পানি উঠে গেছে, সন্তানদের স্কুলে পাঠানো যাচ্ছে না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।”সদরপুর গ্রামের পাভেল বলেন, “গত বছর থেকেই স্লুইসটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তখন সংস্কার করা হলে আজ আমাদের এই দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।”স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্লুইসটিতে ফাটল ও ক্ষয়ের চিহ্ন দেখা গেলেও প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হয়নি। ফলে অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই বর্তমান সংকটের সৃষ্টি হয়েছে বলে তাদের দাবি।এ বিষয়ে কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, সদরপুর স্লুইসসহ উপজেলার জরাজীর্ণ জলকপাট ও স্লুইসগুলোর পুনর্নির্মাণ এবং সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার মোট ১২৯টি স্লুইস ও জলকপাট দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এগুলোর সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ীভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ ও স্লুইস পুনর্নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত