প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬
আমতলীতে মামলা, হামলা ও মানহানির অভিযোগে বিএনপি নেতাদের সংবাদ সম্মেলন
মোঃ জাকারিয়া হোসেন, মোঃ জাকারিয়া হোসেন ||
নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি; ঘটনার সত্য উদঘাটনের আশ্বাস পুলিশেরবরগুনার আমতলী উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মিথ্যা মামলা, হামলা ও মানহানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির কয়েকজন সাবেক নেতা। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।উপজেলার নুর জাহান ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চাওড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. জুয়েল আজাদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তাঁর বড় ভাই, সাবেক ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা আলতাফ হোসেন হাওলাদার, পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় সমর্থকরা।লিখিত বক্তব্যে জুয়েল আজাদ অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের প্রায় দুই একর জমি দখল করেন। তিনি আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছে।তিনি জানান, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারা বলপ্রয়োগের পথ এড়িয়ে আইনগত প্রক্রিয়ায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেন। এ লক্ষ্যে আমতলী থানায় আবেদন করা হলে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বোর্ড গঠন করা হয়। গত ১৮ জুন অনুষ্ঠিত সালিশ বৈঠকে উভয় পক্ষের কাগজপত্র ও জমির রেকর্ড পর্যালোচনা করে সীমানা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।তবে পরবর্তী বৈঠকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ২৫ থেকে ৩০ জন নারী-পুরুষ তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে তাঁর ছোট ভাই আবুল বসার, ছেলে মাহিমসহ পরিবারের অন্তত ১৫ জন আহত হন। গুরুতর আহত আবুল বসারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।জুয়েল আজাদের দাবি, এ ঘটনায় তাঁর বড় ভাই আলতাফ হোসেন হাওলাদার থানায় মামলা দায়ের করলেও প্রতিপক্ষ পাল্টা মামলা করেছে এবং ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেও ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগ এনে আরেকটি মামলা করেছে, যা তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি জানান, বিষয়টি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে।সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ২৫ জুন প্রতিপক্ষ মানববন্ধন করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছে। ভবিষ্যতেও মামলা ও হামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন বক্তারা।তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলার বিচার, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইয়াকুব হোসাইন বলেন, “ঘটনার তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত