প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের এক যুগপূর্তি আজ
মোঃ জাকারিয়া হোসেন ||
১৩তম বর্ষে পদার্পণ, আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণে আরও এগিয়ে বাংলাদেশের বেসরকারি এয়ারলাইন বাংলাদেশের অন্যতম বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স সফলভাবে এক যুগের কার্যক্রম সম্পন্ন করে আজ (১৭ জুলাই) ১৩তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই ঢাকা-যশোর রুটে একটি ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ উড়োজাহাজ দিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আকাশপথে অন্যতম শক্তিশালী এয়ারলাইন্স হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করেছে।বর্তমানে ইউএস-বাংলার বহরে রয়েছে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ, যার মধ্যে রয়েছে ৩টি এয়ারবাস এ৩৩০-৩০০ এবং ৯টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০সহ আধুনিক বহর। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৯০ শতাংশের বেশি অন-টাইম ফ্লাইট পরিচালনার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সংস্থাটি যাত্রীসেবায় আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে।দেশীয় রুটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, সৈয়দপুর ও রাজশাহীতে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনার পাশাপাশি ২০১৬ সালের ১৫ মে ঢাকা-কাঠমান্ডু রুটে ফ্লাইট চালুর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু করে ইউএস-বাংলা। বর্তমানে কলকাতা, চেন্নাই, মালে, মাস্কাট, দোহা, দুবাই, শারজাহ, আবুধাবি, জেদ্দা, রিয়াদ, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক ও গুয়াংজুসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।যাত্রীসেবায় ধারাবাহিক উৎকর্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে ইউএস-বাংলা ২০২২, ২০২৩, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে বেস্ট ডমেস্টিক এয়ারলাইন্স সম্মাননা অর্জন করেছে। এর আগে ২০১৫ সালেও একই স্বীকৃতি লাভ করে সংস্থাটি।বর্তমানে দেশে ও বিদেশে প্রায় চার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে পরিচালিত ইউএস-বাংলা শুধু যাত্রী পরিবহনেই নয়, আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ কার্গো পরিবহনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে নিয়মিত কর ও সারচার্জ পরিশোধ, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে প্রতিষ্ঠানটি।ডিজিটাল সেবার অংশ হিসেবে ইউএস-বাংলা ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট বুকিং সুবিধা প্রদান করছে। এছাড়া দেশে ও বিদেশে ৪০টিরও বেশি নিজস্ব সেলস অফিস এবং কয়েক হাজার ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে যাত্রীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত যাত্রীদের জন্য চালু রয়েছে ‘স্কাইস্টার’ ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লাইয়ার প্রোগ্রাম।বাংলাদেশের বেসরকারি এভিয়েশন খাতে ইউএস-বাংলা বেশ কয়েকটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। স্বাধীনতার পর প্রথম দেশীয় এয়ারলাইন্স হিসেবে চীনের গন্তব্যে, ভারতের চেন্নাই এবং মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্য দ্রুত লাগেজ ডেলিভারির মতো সেবাও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।এক যুগপূর্তি উপলক্ষে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক এভিয়েশন বাজারে আধুনিক উড়োজাহাজ ও উন্নত সেবার মাধ্যমে যাত্রীদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করাই প্রতিষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার অংশীদার হতে পেরে ইউএস-বাংলা পরিবার গর্বিত এবং ভবিষ্যতেও আন্তর্জাতিক মানের সেবা সম্প্রসারণে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে যাবে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের এই যাত্রায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, ট্রাভেল এজেন্ট, ট্যুর অপারেটর, করপোরেট অংশীদার, গণমাধ্যমকর্মী এবং ইউএস-বাংলার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত