প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬
ইরানের পাল্টা হামলা, উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি
মোঃ জাকারিয়া হোসেন ||
ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে টানা ষষ্ঠ রাতের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার জবাবে পাল্টা হামলা চালিয়েছে তেহরান। শুক্রবার উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা চালায় ইরান। এর ফলে গত মাসের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যত ভেঙে গিয়ে দুই দেশের মধ্যে প্রতিদিন হামলা ও পাল্টা হামলার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে অনলাইন ডন।যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও দুর্বল করতে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে। কেশম দ্বীপ এবং বন্দর আব্বাসের আশপাশের এলাকাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত এ অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও যুদ্ধজাহাজ থেকে নিখুঁত অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এতে উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা, সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামো এবং সামুদ্রিক সক্ষমতাসহ ডজনখানেক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। বন্দর আব্বাসে ইরানের বৃহত্তম বন্দর এবং নৌবাহিনী ও রেভল্যুশনারি গার্ডসের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে।এর জবাবে ইরান জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। শুক্রবার ভোরে ইরানের সামরিক বাহিনী জানায়, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোও তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। একজন প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, কাতারের রাজধানী দোহায় একাধিক বিস্ফোরণের মতো শব্দ শোনা যায়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের স্প্লিন্টারের আঘাতে একটি শিশু আহত হয়েছে।ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলায় পাঁচটি সেতুর পাশাপাশি উপকূলীয় শহর বন্দর খামিরের ট্রেন স্টেশন এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইরানশহর বিমানবন্দরেও আঘাত হানা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, বন্দর খামিরের সেতুগুলোতে হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন।উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতেও। সেখানে আবারও নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। বুধবার থেকে তেহরান প্রণালিতে নতুন করে নিজেদের অবরোধ কার্যকর করেছে। একই সময়ে ওয়াশিংটনও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন যদি ইরানের অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তাহলে তেহরান ইয়েমেনের হুথিদের মাধ্যমে লোহিত সাগরের প্রবেশমুখ বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের উদ্যোগ নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। গত সপ্তাহেও ওই প্রণালির একটি করিডোর দিয়ে চলাচলকারী একটি জাহাজে হামলা হয়েছিল।হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে চলমান সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নীরব থাকবেন না এবং এ জন্য ইরানকে মূল্য দিতে হবে। তবে তিনি একই সঙ্গে বলেন, প্রেসিডেন্ট সবসময় কূটনৈতিক সমাধানের পথেও আগ্রহী।হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করতে ইরান চায়, এ পথ ব্যবহারকারী সব জাহাজ তাদের উপকূলঘেঁষা নির্দিষ্ট একটি চ্যানেল দিয়ে চলাচল করুক। গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে নির্ধারিত ৬০ দিনের আলোচনা শেষে ওই পথে চলাচলের জন্য ফি বা শুল্ক আরোপেরও পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন জাহাজগুলোকে ওমান উপকূলের দক্ষিণ দিকের বিকল্প পথ ব্যবহারে উৎসাহিত করেছিল। ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বৃহস্পতিবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশল কার্যকর হবে না, কারণ ইরান তার ভূখণ্ডের যেকোনো স্থান থেকেই হরমুজ প্রণালিতে আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে।
এদিকে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল খার্গ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিতে স্থলবাহিনী ব্যবহারের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি আবারও সতর্ক করে বলেন, তেহরান আলোচনায় ফিরে না এলে আগামী সপ্তাহে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোতে হামলা চালানো হতে পারে।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত