প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬
সামরিক সক্ষমতায় চীনের চেয়ে পিছিয়ে ভারত
মোঃ জাকারিয়া হোসেন ||
ভারত ও চীনের সামরিক সক্ষমতার ব্যবধান এখন আর শুধু আলোচনার বিষয় নয়, বরং এটি ভারতের জন্য বড় ধরনের সামরিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। এনডিটিভির এক বিশ্লেষণে এমন মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়েছে।মার্কিন প্রতিরক্ষা বিষয়ক সাময়িকী দ্য ওয়ার জোন-এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে চীনবিষয়ক সামরিক বিশ্লেষক আন্দ্রিয়াস রুপব্রেখট দাবি করেছেন, চীনের বিমানবাহিনীতে বর্তমানে প্রায় ৫০০টি জে-২০ ‘মাইটি ড্রাগন’ স্টিলথ যুদ্ধবিমান সক্রিয় রয়েছে।বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তথ্যটি সঠিক হলে এটি ভারতের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। কারণ আগে যে সংখ্যার ধারণা করা হয়েছিল, এটি তার দ্বিগুণেরও বেশি। একই সঙ্গে এটি ইঙ্গিত দেয়, অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান উৎপাদনে চীন এমন সক্ষমতা অর্জন করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রকেও ছাড়িয়ে গেছে।প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের বিমানবাহিনীর কাছে বর্তমানে কোনো কার্যকর স্টিলথ যুদ্ধবিমান নেই। ফলে চীনের প্রায় ৫০০টি আধুনিক স্টিলথ ফাইটারের বিপরীতে ভারতের সক্ষমতা এখন শূন্য।এর আগের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তিব্বতসংলগ্ন ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি কয়েকটি চীনা জে-২০ ইউনিট মোতায়েন রয়েছে। এই যুদ্ধবিমানগুলো রাডার এড়িয়ে শত্রুপক্ষের সুরক্ষিত আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারে এবং প্রথম আঘাত হেনে নিরাপদে ফিরে আসার সক্ষমতা রাখে।বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে স্টিলথ ফাইটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এগুলো প্রথমে শত্রুপক্ষের আকাশসীমায় প্রবেশ করে তাদের যুদ্ধবিমান ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে, এরপর অন্যান্য যুদ্ধবিমানের জন্য অভিযান পরিচালনার পথ তৈরি করে।ভারতের সামনে বিকল্প নিয়েও বিশ্লেষণে আলোচনা করা হয়েছে। দেশটির নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ যুদ্ধবিমান এএমসিএ পুরোপুরি কার্যকর হতে অন্তত আরও এক দশক সময় লাগতে পারে।রাশিয়ার সু-৫৭ যুদ্ধবিমানকে জরুরি ভিত্তিতে আমদানির সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, এটিকে ভারতের জন্য আদর্শ স্টিলথ ফাইটার বলা হয়নি। পাশাপাশি এতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ দেশের নিজস্ব প্রযুক্তি উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।এ ছাড়া ইউরোপের ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কর্মসূচি এফসিএএস-এ ভারতের আগ্রহ থাকলেও, সেটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। তাৎক্ষণিক কোনো সংঘাতে এটি কার্যকর হবে না।বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভারতের এএমসিএ যখন পরিষেবায় আসবে, তখন চীনের হাতে উন্নত সংস্করণসহ প্রায় ১ হাজার জে-২০ যুদ্ধবিমান থাকতে পারে। পাশাপাশি দেশটির ষষ্ঠ প্রজন্মের দুটি পৃথক যুদ্ধবিমান প্রকল্পও তখন কার্যকর অবস্থায় থাকতে পারে।তবে এই ব্যবধানের অর্থ ভারত সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষাহীন—এমন নয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে ভারত স্টিলথ যুদ্ধবিমান শনাক্ত ও প্রতিরোধে বিশেষ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সেন্সর এবং ডিটেকশন নেটওয়ার্কের উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। এসব প্রযুক্তি স্টিলথ বিমান না থাকার সীমাবদ্ধতা কিছুটা কমাতে পারে।তবুও বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রে সংখ্যাগত সক্ষমতার গুরুত্ব রয়েছে এবং সেই দিক থেকে ভারত এখন শূন্য থেকে শুরু করছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এটি ভারতীয় বিমানবাহিনীর ব্যর্থতা নয়। বরং দীর্ঘদিনের বিলম্বিত সিদ্ধান্ত, পরিকল্পনার অসঙ্গতি এবং উন্নত যুদ্ধবিমান তৈরিতে দেশীয় শিল্পের সীমাবদ্ধতার ফলেই এই ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এখন মূল প্রশ্ন হলো, এই বাস্তবতা ভারতের নীতিনির্ধারকদের দ্রুত সিদ্ধান্ত ও নতুন উদ্যোগ নিতে কতটা উৎসাহিত করতে পারে।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত