প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬
নওগাঁয় সাবেক অধ্যক্ষের স্ত্রীকে অজ্ঞান করে হত্যা: মূল আসামিসহ গ্রেফতার ২, রহস্য উন্মোচন
মোঃ ওলিউল্লাহ , ব্যুরো প্রধান রাজশাহী ||
নওগাঁ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক জনাব মোঃ শহিদুল আলমের স্ত্রী মোসাঃ ফাতেমা খাতুনকে (৮২) অজ্ঞান করে হত্যা ও স্বর্ণালংকার লুটের চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে জেলা পুলিশ। পুলিশ সুপারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত অভিযানে ঘটনার মূল হোতা হাসিনা বেগম এবং তার সহযোগী স্বর্ণ ব্যবসায়ী ইমরানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুন দুপুরে নওগাঁ শহরের চুরিপট্টি এলাকা থেকে অজ্ঞাতনামা অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা ফাতেমা খাতুনকে রিকশায় তুলে অজ্ঞান করে তাঁর স্বর্ণালংকার ও টাকা-পয়সা লুটে নেয়। পরে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ২৬ জুন সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এই ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় একটি অজ্ঞাতনামা হত্যা মামলা রুজু করা হয়।ঘটনাটি জানার পরপরই নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশে সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী টিম গঠন করা হয়। এই বিশেষ টিম শহরের ৮০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনা করে। অবশেষে জনগণের সহায়তায় গত ১৫ জুলাই নওহাটা এলাকা থেকে সম্ভাব্য অপরাধী হাসিনা বেগমকে গ্রেফতার করা হয়।জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধের কথা স্বীকার করে হাসিনা বেগম জানায়, গত ২৩ জুন সে উকিলপাড়া এলাকায় চুরির উদ্দেশ্যে ‘টার্গেট’ খুঁজছিল। একপর্যায়ে বাড়ি ভাড়া নেওয়ার দোহাই দিয়ে সে অধ্যাপক শহিদুল আলম ও তাঁর স্ত্রী ফাতেমা খাতুনের সাথে একই ব্যাটারিচালিত অটো রিকশায় ওঠে। চুরিপট্টি এলাকার স্টারলাইট ফার্মেসির সামনে নেমে অধ্যাপক শহিদুল আলম মিষ্টি কেনার জন্য একটি দোকানে গেলে, এই সুযোগে হাসিনা বেগম কৌশলে ফাতেমা খাতুনকে আরেকটি রিকশায় তুলে নেয়।তদন্তে আরও জানা যায়, হাসিনা বেগমের কোলে আড়াই থেকে তিন বছরের একটি শিশু সন্তান ছিল, যাকে সে অপরাধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করত। রিকশায় থাকা অবস্থায় হাসিনা জুসের সাথে অত্যন্ত কড়া মাত্রার ঘুমের ওষুধ ‘জিওনিল’ (XIONIL)-এর ৬/৭টি ট্যাবলেট মিশিয়ে ফাতেমা খাতুনকে পান করায়। তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়লে হাসিনা তাঁর শরীরের সমস্ত স্বর্ণালংকার ও টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপর ভিকটিমকে শহরের ময়লাপট্টি এলাকার নদীর পাড়ে একটি বেঞ্চের ওপর ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। লুণ্ঠিত সেই স্বর্ণালংকার সে শহরের জোয়ারদার জুয়েলার্সের মালিক ইমরানের নিকট মাত্র ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে। হাসিনার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ পরবর্তীতে স্বর্ণ ব্যবসায়ী ইমরানকেও গ্রেফতার করে এবং ইমরান স্বর্ণ কেনার কথা স্বীকার করেছে।পুলিশের তদন্তে আরও প্রকাশ পেয়েছে যে, হাসিনা বেগম নওগাঁ শহর ও এর আশপাশের এলাকায় নিজের শিশুকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একইভাবে জুসের সাথে তীব্র ঘুমের ওষুধ খাইয়ে আরও বেশ কয়েকজন নারীর স্বর্ণালংকার ও টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই চক্রের সাথে অন্য কোনো সদস্য জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।এ প্রসঙ্গে নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ জেলা পুলিশ শহরের যেকোনো ধরনের অপরাধ, বিশেষ করে অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা কঠোর হস্তে দমন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। অপরাধী যত কৌশলীই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত