প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬
বহিরাগত দালাল-উমেদারদের দখলে তাহেরপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস
মো: আতিকুর রহমান, জেলা প্রতিনিধি রাজশাহী ||
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বহিরাগত দালাল ও উমেদারদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। খাজনা, নামজারি (খারিজ) ও অন্যান্য ভূমিসেবা পেতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ফাইল আটকে রাখা এবং দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির অভিযোগে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, লুঙ্গি ও চশমা পরিহিত এক ব্যক্তি ভূমি অফিসের রেকর্ডরুমে প্রবেশ করে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্টার ও সংরক্ষিত নথিপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করছেন। স্থানীয়দের দাবি, ওই ব্যক্তির নাম মো. শামীম। তিনি কোনো সরকারি কর্মচারী নন, তবুও নিয়মিত অফিসের রেকর্ডরুমে কাজ করেন।ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ওসমান গণি নামে অপর এক ব্যক্তি অফিসের কম্পিউটারে বিভিন্ন সরকারি কাজ করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনিও সরকারি কর্মচারী নন। তবুও দীর্ঘদিন ধরে তারা ভূমি অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সেবা কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বহিরাগতদের মাধ্যমেই খাজনা, নামজারি ও অন্যান্য সেবার জন্য অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। আবেদনকারীদের অযথা ঘুরানো, ফাইল আটকে রাখা এবং নানা অজুহাতে হয়রানি করা হয়। ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে দালালচক্রের শরণাপন্ন হচ্ছেন।এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক অধিগ্রহণকৃত ২৫৭ নং জেএল রামরামা মৌজার প্রস্তাবিত খতিয়ান নং ৪৫৮-এর দাগ নং ৭৩২৫ ও ৭৩২৬-এর সম্পত্তির ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা স্থানীয় কামরুল, শামীম, বাবুল ও সুরুজ আলীর নামে কেটে দেওয়া হয়েছে, যা সংশ্লিষ্টদের দাবি অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। এ সংক্রান্ত হোল্ডিং নম্বর ৩২২৮ ও ৮৯ বলেও জানা গেছে।আরও অভিযোগ রয়েছে, চালুকৃত হোল্ডিংয়ের বহিপাতা ছিঁড়ে ফেলে সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করা হচ্ছে।স্থানীয়রা জানান, ২০২২ সালেও একই ধরনের অভিযোগে ওই দুই ব্যক্তিকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। সে সময় প্রশাসনের উদ্যোগে তাদের অফিস কার্যক্রম থেকে সরিয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হলেও বর্তমানে তারা আবারও সক্রিয়ভাবে ভূমি অফিসের বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষিত রেকর্ডরুমে বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াত এবং সরকারি কাজে তাদের সম্পৃক্ততার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সচেতন মহল বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঞা বলেন, "বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। অভিযোগ ও ভিডিওটি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো বহিরাগতকে সরকারি নথিপত্র বা অফিসের কার্যক্রমে অবৈধভাবে সম্পৃক্ত থাকার সুযোগ দেওয়া হবে না।"
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত