প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬
নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে সারের বাজারে নৈরাজ্য: একেক বাজারে একেক দামে বিক্রি হচ্ছে ডিএপি
মোঃ ওলিউল্লাহ , ব্যুরো প্রধান রাজশাহী ||
নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) নির্ধারিত ডিএপি (DAP) সারের বাজারে চরম মূল্য কারসাজি ও নৈরাজ্য দেখা দিয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি বস্তা সারের খুচরা বিক্রয়মূল্য ১০৫০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও খোলা বাজারে তা নির্দিষ্ট কোনো দামে বিক্রি হচ্ছে না। বিক্রেতারা নিজেদের ইচ্ছেমতো একেক জনের কাছ থেকে একেক রকম দাম আদায় করছেন।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুই জেলার বিভিন্ন বাজারে ডিএপি সারের বস্তাপ্রতি দামের কোনো মিল নেই। সরকারি মূল্য ১০৫০ টাকা হলেও কোনো বাজারে তা ১৫০০ টাকা, কোথাও ১৩০০ টাকা, আবার কোথাও সর্বোচ্চ ১৬৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ, প্রতি বস্তা সারেই কৃষকদের কাছ থেকে ২৫০ থেকে শুরু করে ৬০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত হাতিয়ে নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ী চক্র। এতে উৎপাদন খরচের তীব্র চাপে পড়া প্রান্তিক কৃষকেরা চরম বিপাকে পড়েছেন।স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সারের বস্তার গায়ে স্পষ্ট অক্ষরে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১০৫০ টাকা লেখা থাকলেও বিক্রেতারা তা মানছেন না। সরকারি মূল্যের কথা বললে বা বেশি দামের প্রতিবাদ করলে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা সার নেই বলে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। ফসল বাঁচানোর তাগিদে বাধ্য হয়েই চাষিদের যে বাজারে যেমন দাম চাচ্ছে, সেই দামেই সার কিনতে হচ্ছে।ভুক্তভোগীরা আরও জানান, এভাবে চড়া ও ভিন্ন ভিন্ন দামে সার বিক্রি করলেও বিক্রেতারা কৃষকদের কোনো ক্যাশ মেমো বা বিক্রয় রসিদ দিচ্ছেন না। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতেই এই কৌশল ব্যবহার করছে অসাধু চক্রটি। মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত ও কঠোর বাজার মনিটরিং না থাকার কারণেই বিক্রেতারা যে যার মতো দাম নির্ধারণের সুযোগ পাচ্ছেন বলে দাবি সচেতন মহলের।চলতি মৌসুমে সারের এই লাগামহীন ও অনিয়ন্ত্রিত দাম কৃষকদের উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সারের বাজারের এই অরাজকতা অবিলম্বে বন্ধ করতে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত