প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬
প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে এলজিইডির সাফল্য মাধ্যমিক শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগে ধীরগতির অভিযোগ
হাফিজুর রহমান।, মোঃ জাকারিয়া হোসেন ||
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। অন্যদিকে, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকৌশল বিভাগের আওতাধীন কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে চলায় শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।উপজেলার উত্তর ভাড়া সিমলা, হোগলা, উত্তর তেতুলিয়া, বাবুরাবাদ, পিরোজপুর, ঘোজাডাঙ্গা, সোনাতলা, ফতেপুর, কালিকাপুর, থালনা, বাথুয়াডাঙ্গা ও জাফরপুরসহ একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, আধুনিক নকশায় নির্মিত নতুন ভবনের কারণে গ্রামীণ শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থায়নে ৫৩ কোটি ৫৯ লাখ ৫৪ হাজার ১০৪ টাকা ব্যয়ে উপজেলার ৭৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।এর মধ্যে চাহিদাভিত্তিক জাতীয়করণকৃত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্প (এনবিআইডিজিপিএস)-এর আওতায় ১৫ কোটি ১ লাখ ৪ হাজার ৬০০ টাকা ব্যয়ে ১৮টি বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ শেষ হয়েছে।এছাড়া চাহিদাভিত্তিক নতুন জাতীয়করণকৃত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্প (এনবিআইডিএনএনজিপিএস)-এর আওতায় ৪ কোটি ৯৮ লাখ ৮৩ হাজার ৬০৯ টাকা ব্যয়ে ৭টি বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।অন্যদিকে, চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প (পিইডিপি-৪)-এর আওতায় ৩৩ কোটি ৫৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ৪৯টি বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে।অপরদিকে, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে নির্মাণাধীন মুড়াগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কাটুনিয়া মাদ্রাসাসহ একাধিক ভবনের কাজ দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে চলছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাদের দাবি, জনবল সংকটের পাশাপাশি অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এসব প্রকল্প সময়মতো শেষ হচ্ছে না।এ বিষয়ে সাতক্ষীরা মাধ্যমিক শিক্ষা প্রকৌশল কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী রিপন বিশ্বাসের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি জনবল সংকটের কথা উল্লেখ করে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে স্বচ্ছতা ও গতি নিশ্চিত করতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের নির্মাণকাজ এলজিইডির কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, “আমি এবং আমার অফিসের সহকারী প্রকৌশলীরা কঠোর পরিশ্রম ও নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কাজের মান নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি। সবার সহযোগিতা ও নজরদারির ফলেই এই সফলতা এসেছে। ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আমরা কাজ করে যাব।”
স্থানীয়দের মতে, এলজিইডির তত্ত্বাবধানে নির্মিত আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন বিদ্যালয় ভবনগুলো পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ টিনশেড ভবনের পরিবর্তে নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করেছে। ফলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী হওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে। তারা এই উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত