প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬
চীনের সঙ্গে ভূরাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যাশা বিএনপির: মির্জা ফখরুল
মোঃ জাকারিয়া হোসেন ||
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে চায় বিএনপি। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের মাধ্যমে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক নতুন গতি পেয়েছে।শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের তরুণদের সঙ্গে চীনের যোগাযোগ বাড়ছে এবং প্রধানমন্ত্রীর সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গতিশীল করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে বিএনপির দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে এবং আওয়ামী লীগের শাসনামলেও সেই যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।তিনি আরও বলেন, চীন শুধু আওয়ামী লীগের সঙ্গে নয়, বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রেখেছে। বিএনপি চীনের সঙ্গে ভূরাজনৈতিক স্বার্থে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়। পাশাপাশি ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের আগ্রহ রয়েছে বলে জানান তিনি।মির্জা ফখরুল বলেন, চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের তরুণদের কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ করে তুলতে এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে চীনের সহযোগিতা প্রয়োজন। এছাড়া সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন, সৌরবিদ্যুৎ এবং গ্রিন এনার্জি খাতে চীনা প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে বাংলাদেশ উপকৃত হবে বলেও মন্তব্য করেন।তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে বিএনপির আদর্শিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি আরও সম্প্রসারিত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি আধিপত্যবিরোধী শক্তি হিসেবে চীনের নেতৃত্ব কামনা করে বাংলাদেশ বলেও মন্তব্য করেন।সভায় চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চীনের হাইস্পিড ট্রেন প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বাংলাদেশে বাস্তবায়নে তারা আগ্রহী। চট্টগ্রাম, ঢাকা ও সিলেটকে এই প্রযুক্তির আওতায় আনার সম্ভাবনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।এ সময় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জান মিল্লাতসহ বিভিন্ন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নজমুল হক নান্নু।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা, সম্মান, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। তারা আশা প্রকাশ করেন, অবকাঠামো, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত