প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬
মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের ব্যাপক পাল্টা আঘাত
মোঃ জাকারিয়া হোসেন ||
ইরানে টানা সপ্তম রাতের মতো বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তির সমাপ্তি ঘোষণা করার পর থেকেই দেশটির সামরিক বাহিনী ধারাবাহিকভাবে এসব হামলা পরিচালনা করছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, অভিযানে ইরানের নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রাগার এবং সামুদ্রিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে গভীর আঘাত হানা হয়েছে। এ অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, যুদ্ধজাহাজসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে।ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইয়াজদ, কেশম দ্বীপ এবং প্রণালির পাশে অবস্থিত বন্দর আব্বাস এলাকায় একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর স্থাপনাগুলোতে ইরান পাল্টা হামলা আরও জোরদার করেছে। কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি শত্রুভাবাপন্ন হামলায় তাদের বিদ্যুৎ ও পানি শোধন প্ল্যান্ট লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এতে প্ল্যান্টের একটি অংশে আগুন লাগে এবং কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট অকার্যকর হয়ে পড়ে। কুয়েত ফায়ার ফোর্স জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে কয়েকজন দমকলকর্মী ও শ্রমিক আহত হয়েছেন। এছাড়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে কুয়েত সাময়িকভাবে তাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত করে।পাল্টা হামলার অংশ হিসেবে ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি) কুয়েতের আল-আহমাদি বন্দরে অবস্থিত একটি মার্কিন নৌ-জ্বালানি সহায়তা জেটি এবং দেশটির অভ্যন্তরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের একটি সিগন্যাল ও যোগাযোগ কেন্দ্রে আঘাত হানার দাবি করেছে। একই সঙ্গে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের সমাবেশস্থল শেখ ঈসা বিমান ঘাঁটি এবং মার্কিন গোয়েন্দা ডাটা সেন্টারেও সফল হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি।সংঘাতের প্রভাব কাতারেও পড়েছে। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় ওপর থেকে পড়া ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক শিশু আহত হয়েছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রাতে তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ১০টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে সিবিএস নিউজকে সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত সপ্তাহে জর্ডানের দুটি ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় কয়েকজন মার্কিন সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন।ওমান সাগরের পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে থাই পতাকাবাহী একটি জাহাজ আইআরজিসির সতর্কতা অমান্য করে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে সেটির ওপরও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে মাইন পাতা পথ দিয়ে যাওয়ার সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্র অস্বীকার করেছে।এর আগে তেহরানের বেসামরিক অবকাঠামো, যেমন সেতু, ট্রেন স্টেশন ও বিমানবন্দরে হামলার অভিযোগও যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করেছিল। তবে বিবিসি ভেরিফাই ও বিবিসি পার্সিয়ান রাতে একটি সেতুতে অগ্নিকাণ্ডের ভিডিও এবং পরে দিনের আলোয় ভেঙে পড়া ধ্বংসাবশেষের ছবি যাচাই করেছে। হরমুজগান প্রদেশের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন।হোয়াইট হাউজের এক মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তু ও সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামোতেই হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে আইআরজিসি এক বিবৃতিতে সতর্ক করে জানিয়েছে, বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি পরিচালনাকারী অঞ্চলের দেশগুলোকে ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক পরিণতি ভোগ করতে হবে।
যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আলোচনার অংশ হিসেবে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তবে আলোচনা অগ্রসর না হওয়ায় গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি ঘোষণা করেন। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার পাশাপাশি দেশটির বন্দরগুলোতে পুনরায় নৌঅবরোধ আরোপ করেছে। জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি নৌচলাচলের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরল বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত