প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬
পটুয়াখালীতে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ
মোঃ জাকারিয়া হোসেন, মোঃ জাকারিয়া হোসেন ||
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতার বাড়ি এস্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের কাঠালতলী বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি মাধবখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সভাপতি মো. মিজানুর রহমান লাভলু কাজীর। ঘটনার সময় বাড়িটি তালাবদ্ধ ছিল এবং সেখানে কোনো ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন না।লাভলু কাজীর অভিযোগ, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরীর অনুসারীরা তার বাড়িতে হামলা চালান। তার দাবি, প্রথমে এস্কেভেটর দিয়ে ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। পরে ঘরে থাকা মালামাল লুট করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আলতাফ হোসেন চৌধুরীর ছোট ভাই ও মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহীন চৌধুরী নেতৃত্ব দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।ঘটনার সময় লাভলু কাজীর ভাই মশিউর রহমান বাবলু কাজী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চাইলেও তাৎক্ষণিক কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাস্থলের জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ২০০৩ সালে জমিটি পাবলিক লাইব্রেরির নামে নিবন্ধিত হয়। তবে এক পক্ষের দাবি, জমির একটি অংশ লাভলু কাজীর মালিকানাধীন। অপর পক্ষের ভাষ্য, জমির অধিকাংশই সরকারি গণগ্রন্থাগারের। জমি উদ্ধারের দাবিতে পটুয়াখালী সরকারি গণগ্রন্থাগারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।এ বিষয়ে আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। অপরদিকে অভিযুক্ত শাহীন চৌধুরীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির (স্থগিত কমিটি) সভাপতি শাহাবুদ্দিন নান্নু মুন্সী বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা নেই। কেউ ব্যক্তিগতভাবে কোনো অপরাধ করে থাকলে তার দায় দল নেবে না। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভাঙচুরের আলামত পেয়েছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললেও কেউ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানান, জমির মালিকানা-সংক্রান্ত একটি আবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রয়েছে এবং বিষয়টি সহকারী কমিশনার (ভূমি) তদন্ত করছেন। তদন্ত চলাকালেই এ ঘটনা ঘটে।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতের অন্ধকারে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে এবং তদন্তে সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত