প্রিন্ট এর তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬
চুরির অভিযোগে ১০০ রাকাত নফল নামাজ ও তওবার পর মুক্তি, কয়েক ঘণ্টা পর মাদক মামলায় পুলিশের হাতে আটক
মোঃ জাকারিয়া হোসেন ||
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মোবাইল ফোন ও একটি নারীদের ব্যাগ চুরির অভিযোগে আটক এক যুবককে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় ও তওবা করিয়ে ছেড়ে দেন স্থানীয়রা। তবে কয়েক ঘণ্টা না পেরোতেই মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগে তাকে আটক করে পুলিশ।শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ফকির আস্তানা এলাকায় প্রথম ঘটনাটি ঘটে। পরে রাতের দিকে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ মো. করিম নামে ওই যুবককে আটক করে। তিনি জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে।স্থানীয়দের দাবি, মোবাইল ফোন ও একটি লেডিস ব্যাগ চুরির অভিযোগে করিমকে আটক করা হয়েছিল। পরে তার অসহায় অবস্থার কথা বিবেচনায় নিয়ে পুলিশের কাছে না দিয়ে ভবিষ্যতে চুরি বা অন্য কোনো অসৎ কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না—এমন প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয়। শর্ত হিসেবে তাকে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় ও তওবা করতে বলা হয়। নামাজ শেষ করার পর স্থানীয়রা তাকে ছেড়ে দেন।তবে ওই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরই মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগে করিমকে আটক করে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।স্থানীয় যুবক ইকবাল হোসেন বলেন, ভালো হওয়ার অঙ্গীকার করে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় ও তওবা করার পর করিমকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাতেই তিনি মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগে পুলিশের হাতে আটক হন। তার ভাষায়, নিজের ভেতর থেকে পরিবর্তনের ইচ্ছা না থাকলে কাউকে জোর করে সংশোধন করা কঠিন।আরেক স্থানীয় যুবক তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, করিমকে অসহায় মনে করে শেষবারের মতো সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি আবার আইনের আওতায় চলে যান। ঘটনাটি দুঃখজনক।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হালিম বলেন, স্থানীয়রা চুরির অভিযোগে করিমকে আটক করে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় ও তওবা করিয়ে ছেড়ে দিয়েছিলেন। পরে রাতে মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। এরপর আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত