প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬
ঠাকুরগাঁওয়ে ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের আমৃত্যু, আরও ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
মোঃ জাকারিয়া হোসেন ||
১৪ বছর আগে ঠাকুরগাঁওয়ে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অপর তিনজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।রোববার (১৯ জুলাই) ঠাকুরগাঁও শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মনসুর আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— মো. আনিস রানা, মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. দুলাল। রায় ঘোষণার সময় আনিস রানা পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানার পাশাপাশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন আদালত। অন্যদিকে, যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— মো. আনিছুর, মো. খতিবুর ওরফে খতু এবং মো. লালু। দণ্ডপ্রাপ্ত সবাই ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মুসলিমনগর ও গোয়ালপাড়া এলাকার বাসিন্দা।আদালতের রায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অতিরিক্ত এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। একই সঙ্গে আদালত উল্লেখ করেন, আমৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্তরা ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫(এ) ধারা বা জেল কোড অনুযায়ী কোনো ধরনের সাজা মওকুফ বা রেমিশনের সুবিধা পাবেন না।রায়ে আরও বলা হয়েছে, আদায়কৃত জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৬ ধারা অনুযায়ী দণ্ডিতদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার জন্য ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় এক স্কুলছাত্রী বান্ধবীর বাড়ি থেকে ফেরার পথে এনামুল পেট্রোল পাম্পের পেছনে তাকে অপহরণ করা হয়। পরে পাম্পসংলগ্ন বাঁশহাট এলাকার একটি মোবাইল টাওয়ারের নিচে নিয়ে গিয়ে কয়েকজন আসামি তাকে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে এবং অন্যরা এতে সহযোগিতা করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর, ২৪ অক্টোবর ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত