প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬
নীলফামারীতে ২০২৫ সালের প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা,পৌনে দুই ঘণ্টা পর ধরা পড়ল ভুল
মো: তানজিল সুবহা , নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি ||
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় চলমান এইচএসসি পরীক্ষার একটি কেন্দ্রে বড় ধরনের গাফিলতি ধরা পড়েছে। ২০২৬ সালের মূল পরীক্ষার ইতিহাস বিষয়ে ভুলবশত বিগত ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রে প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট পরীক্ষা নেওয়ার পর কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের টনক নড়েছে। পরে ভুল ধরা পড়লে আগের খাতা ও প্রশ্ন পরিবর্তন করে নতুন প্রশ্নপত্রে পুনরায় পরীক্ষা শুরু করা হয়।আজ রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল ১০টায় কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।পরীক্ষার্থী ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, সকাল ১০টায় ইতিহাস পরীক্ষা শুরু হলে পরীক্ষার্থীদের হাতে ভুলবশত ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়। সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ওই ভুল প্রশ্নপত্রেই উত্তর লিখতে থাকেন। পরে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের নজরে ভুলটি এলে তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা স্থগিত করা হয় এবং ২০২৬ সালের সঠিক প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। এরপর নতুন প্রশ্নে পরীক্ষা শুরু করে শিক্ষার্থীদের দুপুর ২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়।পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, পরীক্ষা শুরুর পরপরই প্রশ্নপত্রে কিছু অসঙ্গতি তাদের নজরে আসে। কক্ষে দায়িত্বরত পরিদর্শকদের বিষয়টি জানানো হলেও তারা প্রথমে তা গুরুত্ব দেননি। দীর্ঘ পৌনে দুই ঘণ্টা পর কর্তৃপক্ষ নিজেদের ভুল বুঝতে পারে।এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী শুভ মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বড়ভিটা স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের দুটি কক্ষে আমাদের পরীক্ষা ছিল। আমরা যখন ভুল প্রশ্নে ৪টি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লেখা শেষ করেছি, তখন একজন শিক্ষক এসে আগের খাতা নিয়ে আমাদের নতুন প্রশ্নপত্র দেন। ততক্ষণে পরীক্ষার ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট পার হয়ে গেছে। একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে প্রথমে ৪টি এবং পরে আবার নতুন করে ৭টি, মোট ১১টি সৃজনশীল লেখা কীভাবে সম্ভব?’একই অভিযোগ করে আরেক শিক্ষার্থী মাহফুজ ইসলাম বলেন, ‘৪টা সৃজনশীল লেখার পর আমাদের বলা হলো আগের প্রশ্ন ভুল ছিল, এখন নতুন করে ৭টি লিখতে হবে। এই মানসিক চাপে আমাদের পরীক্ষা চরম খারাপ হয়েছে।’এ বিষয়ে জানতে বড়ভিটা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বাদশা আলমগীরকে প্রশ্ন করা হলে তিনি প্রথমে দাবি করেন, ‘আমরা সঠিক প্রশ্ন দিয়েই পরীক্ষা নিয়েছি।’ তবে একাধিক শিক্ষার্থীর ধারণকৃত বক্তব্য থাকার কথা জানালে তিনি বলেন, ‘আমি এখন ব্যস্ত আছি, পরে ফোন দেব।’ এরপরই তিনি নিজের মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে দেন।কিশোরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুজ্জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি আমরা অবগত আছি। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসছি।’ তবে ভুলের কারণ জানতে চাইলে তিনি বর্তমানে মিটিংয়ে আছেন জানিয়ে আর কোনো মন্তব্য করেননি।এ প্রসঙ্গে বক্তব্য নিতে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত