প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬
জুলাই সনদ প্রতিষ্ঠায় সব দলের ঐকমত্য প্রয়োজন: রিজভী
মোঃ জাকারিয়া হোসেন ||
জুলাই জাতীয় সনদকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এ বিষয়ে সরকার, সরকারি দল ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে এতে নতুন বিষয় সংযোজন করা যেতে পারে। আলোচনা শেষে যেসব বিষয় আইনের মাধ্যমে কার্যকর করা প্রয়োজন, সেগুলো সংসদে পাস করতে হবে এবং সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হলে সেটিও সম্পন্ন করে জুলাই সনদকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।সোমবার রাজধানীর উত্তরায় ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিটি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘জুলাই স্মৃতি’ এবং ‘তারুণ্যের স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।রিজভী বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সবাইকে এক টেবিলে বসে আলোচনা করে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। তার মতে, এই উদ্যোগ দ্রুত নেওয়া জরুরি। অন্যথায় বিভিন্ন উপায়ে গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি আবারও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে এবং বিপুল অর্থ ও দেশের বাইরের সহায়তায় নিজেদের পুনর্গঠনের সুযোগ পেতে পারে।তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের পরিবর্তনের মাধ্যমে অন্তত গণতন্ত্রের কিছুটা আলো ফিরে এসেছে। এখন একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সরকারের সমালোচনা করলেই গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হওয়ার পরিস্থিতি নেই। তিনি বলেন, মত প্রকাশ ও সমালোচনার সুযোগ একটি গণতান্ত্রিক সমাজের অপরিহার্য উপাদান এবং জুলাই সেই সুযোগ নিশ্চিত করেছে।রিজভীর ভাষ্য, জুলাইয়ের তাৎপর্য গভীর। রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের বিকাশে যেসব কাজ এখনো বাকি রয়েছে, সেগুলো সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অন্তত কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে ন্যূনতম সমঝোতা থাকা প্রয়োজন। তা না হলে গণতন্ত্র আবারও সংকটে পড়তে পারে এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।জুলাই আন্দোলনে শহীদ মীর মুগ্ধকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘পানি লাগবে, পানি?’—এই স্মৃতি কখনো ভোলার নয়। তিনি বলেন, মীর মুগ্ধসহ যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের অবদান জাতি সবসময় স্মরণ করবে।রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে। তার দাবি, সে সময় গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রিত ছিল, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ছিল না এবং সরকারের নির্দেশনাই আদালতে প্রতিফলিত হতো। তিনি আরও বলেন, একের পর এক নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় টিকে থাকতে আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছে এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে দমন করার চেষ্টা করেছে। বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে অসুস্থতার মধ্যে ফেলে রাখার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, একদলীয় শাসনব্যবস্থায় এমন কৌশলই অনুসরণ করা হয়।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব মোস্তফা জামান, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ (মিষ্টি), এবি পার্টির নেতা আবু সাঈদ চঞ্চল, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহিদুল কবির এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ অন্যরা।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত