প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬
মধ্যস্থতায় মামলা কমেছে ৬২ শতাংশ, এক বছরে বিচার বিভাগে স্বস্তির আশা: আইনমন্ত্রী
মোঃ জাকারিয়া হোসেন ||
মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য চালু হওয়া বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা (মিডিয়েশন) কার্যক্রমের ফলে পাইলট প্রকল্পের আওতাধীন ২০ জেলায় বিভিন্ন ধরনের মামলার সংখ্যা গড়ে ৬২ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে আরও ১০ জেলায় মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় সাড়ে ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যা বিচার বিভাগের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। এ পরিস্থিতিতে মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখছে।তিনি জানান, পাইলট প্রকল্পের আওতায় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পারিবারিক আদালত আইনে ৩ হাজার ৫৫৯টি মামলা দায়ের হলেও ২০২৬ সালের একই সময়ে তা কমে ১ হাজার ৭৪৪টিতে নেমে এসেছে, যা ৫১ শতাংশ হ্রাস। একই সময়ে বণ্টনসংক্রান্ত দেওয়ানি মামলা ২ হাজার ১টি থেকে কমে ৬৬১টিতে নেমেছে, অর্থাৎ প্রায় ৬৭ শতাংশ কমেছে। যৌতুক নিরোধ আইনের মামলাও ৫ হাজার ৬০৫টি থেকে কমে ১ হাজার ৮১০টিতে এসেছে।এ ছাড়া স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি আইনের প্রিমশন মামলা ১৭টি থেকে কমে ২টিতে, নন-অ্যাগ্রিকালচারাল টেন্যান্সি আইনের মামলা ৩১টি থেকে ১৪টিতে এবং পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইনের মামলা ৪৩টি থেকে কমে ৩৫টিতে নেমেছে বলেও জানান তিনি।আইনমন্ত্রী বলেন, মামলা আদালতে যাওয়ার আগেই যদি বিরোধের সমাধান করা সম্ভব হয়, তাহলে নতুন মামলার চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। পাশাপাশি আদালতে থাকা আপসযোগ্য মামলাগুলোও আইনজীবী বা জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাধ্যমে মধ্যস্থতার আওতায় আনা উচিত।তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা গেলে আগামী এক বছরের মধ্যে বিচারাধীন প্রায় সাড়ে ৪৫ লাখ মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে, যা বিচার বিভাগের জন্য আশাব্যঞ্জক হবে।মন্ত্রী আরও বলেন, মধ্যস্থতার মাধ্যমে মানুষ দ্রুত, কম খরচে এবং হয়রানিমুক্তভাবে বিরোধের নিষ্পত্তির সুযোগ পাচ্ছেন। এতে বিচারপ্রার্থীদের আর্থিক ক্ষতিও কমছে।গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে পরিচালিত মধ্যস্থতা কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে আরও বেশি জানাতে হবে। পাশাপাশি সরকার যে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিচ্ছে, সেই তথ্যও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।কক্সবাজারে এক লাখের বেশি বিচারাধীন মামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ ওই জেলার বিচারাধীন মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট বিচারক ও কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।
মধ্যস্থতা কার্যক্রমে দুর্নীতির বিষয়ে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এ কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির ক্ষেত্রে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বহাল রয়েছে।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত