প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬
‘সাদা পোশাকে থাকা ব্যক্তিরা শিক্ষার্থীদের মারধর করেছে’—অভিযোগ অখিলেশ যাদবের
মোঃ জাকারিয়া হোসেন ||
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর সাদা পোশাকে থাকা কয়েকজন পুলিশ সদস্য হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব। এ তথ্য জানিয়েছে দ্য হিন্দু।সোমবার (২০ জুলাই) নয়াদিল্লিতে হাজারো শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভকারী শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের দাবিতে সমাবেশ করেন। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ১৮০ জন আহত হন।মঙ্গলবার (২১ জুলাই) অখিলেশ যাদব বলেন, স্বাধীনতার পর কোনো সরকার জনগণের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করবে, তা কল্পনাও করা যায়নি। তাঁর দাবি, হিটলার যেমন ব্যক্তিগত বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন, তেমনি আগের দিনের বিক্ষোভে সাদা পোশাকে থাকা অনেককে আন্দোলনকারীদের মারধর করতে দেখা গেছে।তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকার তাদের মন্ত্রীদের পদত্যাগ করাতে পারছে না। তাঁর ভাষ্য, সরকার মনে করছে মন্ত্রীদের ওপর পদত্যাগের চাপ সৃষ্টি করা হলে তারা সরকারের বিভিন্ন গোপন তথ্য প্রকাশ করতে পারেন।সোমবার বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। দিল্লিতে গত প্রায় পাঁচ বছরের মধ্যে এটিকে অন্যতম বড় সড়ক বিক্ষোভ হিসেবে দেখা হচ্ছে।দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে মোট ১৭৮ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১১৮ জন পুলিশ সদস্য, যাদের মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও রয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৬০ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।পুলিশের দাবি, আন্দোলনকারীদের একটি অংশ উচ্ছৃঙ্খল ও সহিংস আচরণ করেছে। অন্যদিকে আন্দোলনের আয়োজকরা পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের সমালোচনা করে দাবি করেছেন, শত শত আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন।বার্তা সংস্থা এএফপিকে সিজেপির নেতা আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ভারতের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটি একটি লজ্জাজনক দিন। তাঁর অভিযোগ, ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর দিল্লি পুলিশ নির্মমভাবে হামলা চালিয়েছে।তিনি আরও জানান, সোমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক হলেও আন্দোলনকারীদের দাবির বিষয়ে সরকার এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি।
উল্লেখ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বাতিল হওয়া মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) পরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে পুনরায় অনুষ্ঠিত হয়, যাতে প্রায় ২২ লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এর আগে প্রায় ২০ লাখ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীর অনলাইন মূল্যায়ন নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, যা দেশজুড়ে অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে তোলে।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত