প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬
সরকারকে অস্থিতিশীলের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী ও ঘনিষ্ঠদের টার্গেট করে ‘পেইড’ অপপ্রচারের দাবি
মোঃ জাকারিয়া হোসেন ||
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাসের মধ্যেই সরকার ও দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে কারা দেশে ফিরবেন, সে-সংক্রান্ত একটি তালিকা এবং ‘ডিসেম্বর টু মার্চ’ নামে একটি রোডম্যাপও প্রস্তুত করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। একই সূত্রের ভাষ্য, শেখ হাসিনার নির্দেশনায় দেশে ফেরার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে তাঁর অনুসারীরা সক্রিয় রয়েছে। বর্তমান সরকারকে দুর্বল করা এবং জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি করতেই এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।এ অভিযোগও রয়েছে যে, বিএনপির কিছু অসাধু ও সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তি অনিচ্ছাকৃতভাবে এই ষড়যন্ত্রের অংশ হয়ে পড়ছেন। সরকারের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সুবিধা না পাওয়া কয়েকজন বিতর্কিত ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে থাকা বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে অপপ্রচারে যুক্ত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন।তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘রিউমার স্ক্যানার’-এর জরিপের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ৩৫১টি এবং তাঁর কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে ৫০টি ভিত্তিহীন গুজব ছড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও নিয়মিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম এবং শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনও অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। সরকারকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলা এবং জনমনে অসন্তোষ তৈরি করার উদ্দেশ্যে তাঁদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মনগড়া বিভিন্ন ইস্যু ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন স্তরে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দিয়েছিল। ভোটচুরি থেকে শুরু করে নানা অনিয়মে এসব ব্যক্তিরা ভূমিকা রেখেছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, সেই সময় নিয়োগ পাওয়া অনেকেই এখনো প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত রয়েছেন এবং বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলে শেখ হাসিনাকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে গোপনে তৎপর রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম এবং শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন মূলত এ প্রশাসনিক চক্রান্তের শিকার। দায়িত্ব নেওয়ার পর মীর শাহ আলম কিছু আমলার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করায় একটি আমলাতান্ত্রিক গোষ্ঠী অসন্তুষ্ট হয়। পাশাপাশি বিএনপির একটি অংশ তাঁর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে বলেও দাবি করা হয়েছে।সাম্প্রতিক সময়ে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত বা পুনর্বিন্যাসের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনকেও অনেকে এ ষড়যন্ত্রের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। তাদের দাবি, ওই আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীর তুলনায় অছাত্র, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগ-সমর্থিত পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি বেশি ছিল।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মীর শাহ আলম পরিবারের নামে কোনো প্রতিষ্ঠান না করার লিখিত নির্দেশনা দিলেও তা উপেক্ষা করে তাঁর পরিবারের এক সদস্যের নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণের প্রস্তাব পাঠানো হয়। পরে সেই তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে তাঁকে ট্রোল ও অপপ্রচারের মুখে ফেলা হয়। বিদেশে অবস্থানকারী কয়েকজন ব্লগারও অর্থের বিনিময়ে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার পেছনে সরকারের এক মন্ত্রীর এপিএসের নামও উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, একটি বড় রাজনৈতিক শক্তিকে দুর্বল করতে হলে আগে তার ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের বিতর্কিত করার কৌশল নেওয়া হয়। তাঁদের মতে, আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীরা সরকারের প্রতি জনআস্থা কমিয়ে আনতেই এ ধরনের কৌশল অনুসরণ করছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী বলেন, এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানো নিন্দনীয় এবং যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন।বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া অপপ্রচার সমাজে বিভ্রান্তি ও ফিতনা সৃষ্টি করে। ইসলামে এমন কাজ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তিনি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর হাদিস উদ্ধৃত করে বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।’ তাই গুজব ও প্রোপাগান্ডা থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত পাঁচ মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। সরকার-সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সরকারের এসব সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়েই প্রতিপক্ষ ভিন্ন কৌশলে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত