প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬
দিল্লির বিক্ষোভে চাপে মোদি সরকার, আন্দোলন আরও জোরদারের ঘোষণা
মোঃ জাকারিয়া হোসেন ||
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন আরও তীব্র করার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। মঙ্গলবার দিল্লির যন্তর মন্তরে দলের নেতা অভিজিৎ দীপক এ ঘোষণা দেন।অভিজিৎ দীপক বলেন, পুলিশের বাধা সত্ত্বেও তাদের আন্দোলন যন্তর মন্তরেই চলবে। তবে আপাতত সংসদ ভবনের দিকে নতুন কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে না। এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা ও এনডিটিভি।এর আগে সোমবার ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে ঘিরে যন্তর মন্তরে নির্মিত আন্দোলনের মঞ্চ ভেঙে দেয় দিল্লি পুলিশ। একই দিনে সংসদ অভিমুখে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। সংঘর্ষে বহু আন্দোলনকারী ও পুলিশ সদস্য আহত হন। আহতদের মধ্যে এক তরুণীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতালে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছে। ওই সংঘর্ষে ১০০ জনের বেশি মানুষ আহত হন।চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। এদিন দলটির নেতারা প্রথমে সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনের সামনে জড়ো হন। সেখান থেকে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা পদযাত্রা করে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে পৌঁছান। অবস্থান কর্মসূচির সময় কংগ্রেসের কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। এ সময় রাহুল গান্ধীর নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে দেখা যায়।কর্মসূচির আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো সহিংসতার জবাব চাইতেই তারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে গেছেন। তিনি প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। একই দিন রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী হাসপাতালে গিয়ে আহত আন্দোলনকারীদের খোঁজ নেন। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডাও আরএমএল ও লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতালে গিয়ে আহতদের চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।সরকারি সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ খোলা রাখা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি।এদিকে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, তাদের তিনটি প্রধান দাবি হলো—শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, নিহত পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ এবং হাসপাতালে ভর্তি সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের নিঃশর্ত মুক্তি। এসব দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে বলেও তিনি জানান।অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, প্রশ্নফাঁস ঠেকানো জাতীয় দায়িত্ব এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। তবে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, বিচার দাবি করা শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ চালিয়ে সরকার তরুণ সমাজের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করছে। তার ভাষায়, নরেন্দ্র মোদি ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে ‘তরুণবিরোধী’ প্রধানমন্ত্রী।বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষার্থীদের প্রতি ব্যাপক জনসমর্থন এবং বিরোধী দলের সরাসরি অংশগ্রহণ আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওপর চাপ আরও বাড়াতে পারে। অভিজিৎ বলেন, সরকারের মুখ পুড়েছে। সরকার চাইলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব ছিল। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করা হলে এই আন্দোলনের প্রয়োজন পড়ত না। কিন্তু সরকার নির্লজ্জ এবং বিজেপির নেতারা উদ্ধত।
এক্সে দেওয়া আরেক বার্তায় অভিজিৎ লেখেন, পুলিশি বর্বরতায় আহতদের কাছে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী। তিনি বলেন, দিল্লি পুলিশের অমানবিক আচরণ থেকে আন্দোলনকারীদের রক্ষা করতে পারেননি। তার অভিযোগ, ২০ জনের বেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর জন্য দায়ী বলে যাকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে, সেই ধর্মেন্দ্র প্রধানকে রক্ষা করতে গিয়ে সরকার নিরীহ ছাত্রছাত্রীদের রক্তাক্ত করেছে। তিনি জানান, সবার স্বার্থে এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত