প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬
মোদির জন্য বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ, বিরোধীদের সামনে নতুন সম্ভাবনা
মোঃ জাকারিয়া হোসেন ||
ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও দুর্নীতির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলোর সামনেও নতুন রাজনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এমন মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর ক্ষুব্ধ তরুণদের অংশগ্রহণে সিজেপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে। সে সময় সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতারা বলেছিলেন, তাদের সমর্থকরা শুধু মোদি সরকারের ওপর নয়, বিরোধী দলগুলোর প্রতিও আস্থা হারিয়েছেন। কারণ, তরুণদের সমস্যার কার্যকর সমাধানে কোনো পক্ষই সফল হয়নি।তবে সোমবার দিল্লিতে ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির সময় পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। আন্দোলনের নেতারা প্রকাশ্যে বিরোধী দলগুলোর সংসদ সদস্যদের সমর্থন কামনা করেন। এর পরদিন কংগ্রেসসহ বিভিন্ন বিরোধী দল আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানায়, বিশেষ করে পুলিশের অভিযানে বহু শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনায়।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলনের পাশে অবস্থান নিয়ে বিরোধী দলগুলো তরুণ ভোটারদের মধ্যে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে। পাশাপাশি সিজেপির আন্দোলনও জাতীয় পর্যায়ে আরও বিস্তৃত সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এখন পর্যন্ত সংগঠনটি মূলত প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।রয়টার্সের তথ্যমতে, দিল্লির সাম্প্রতিক বিক্ষোভে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ অংশ নেন। পুলিশের কঠোর অভিযানের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রায় সব প্রধান বিরোধী দল আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানায়। যদিও সিজেপি স্পষ্ট করেছে, নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।বিশ্লেষকদের ভাষ্য, বিরোধী দলগুলোর সমর্থন আন্দোলনের জন্য অর্থ, সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং জাতীয় পরিচিতি বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তবে এতে একটি ঝুঁকিও রয়েছে। শিক্ষার্থীদের মূল দাবি—প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং কর্মসংস্থান—বৃহত্তর রাজনৈতিক এজেন্ডার আড়ালে চাপা পড়ে যেতে পারে।ভারতের ১৪২ কোটির বেশি মানুষের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ৩০ বছরের নিচে। উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় তরুণদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে বিরোধী দলগুলো তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আগামী জাতীয় নির্বাচন ২০২৯ সালের মধ্যে হওয়ার কথা থাকলেও তার আগে উত্তর প্রদেশ ও পাঞ্জাবের গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য নির্বাচন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।দিল্লির সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব ডেভেলপিং সোসাইটিজ (সিএসডিএস)-এর অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার রয়টার্সকে বলেন, অন্তত এই ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে শক্তিশালী জনমত তৈরি হয়েছে বলে বিরোধীরা মনে করছে। তার মতে, আন্দোলনের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা না থাকলে সরকার আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে।মঙ্গলবার রাতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেন। তারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন। আটক হওয়ার আগে রাহুল গান্ধী বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা মানে ভারতের প্রতিটি পরিবারের ওপর হামলা এবং এই আন্দোলনের কণ্ঠরোধ করা যাবে না।অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখনো প্রকাশ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে শাসক জোটের এক বৈঠকে তিনি শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে মন্ত্রিসভার এক সদস্য জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক রশিদ কিদওয়াইয়ের মতে, ভারতের তরুণদের সমর্থন অর্জনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। তবে সিজেপির এক মুখপাত্র বলেছেন, এটি কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন নয়; এটি সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। বিরোধী দলগুলোর সমর্থনকে স্বাগত জানানো হলেও আন্দোলনের মঞ্চকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পরিণত হতে দেওয়া হবে না।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত