প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬
হাসিনা সরকারের পাশে থাকার ঘোষণা দেওয়া ব্যবসায়ী নেতাদের নিয়ে নতুন করে তদন্তের দাবি
মোঃ জাকারিয়া হোসেন ||
২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকটের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পাশে অবস্থান নিয়েছিলেন দেশের কয়েকজন শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে বক্তব্য দেওয়া এবং সরকারকে সমর্থনের ঘোষণার বিষয়টি বর্তমানে আবারও আলোচনায় এসেছে।জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের সময় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার পর সরকার ইন্টারনেট বন্ধ, কারফিউ জারি এবং সাধারণ ছুটির মতো পদক্ষেপ নেয়। একই সময়ে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানাও বন্ধ ঘোষণা করা হয়।এ পরিস্থিতিতে তৎকালীন সরকারের বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্প উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং তৎকালীন তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতের উদ্যোগে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতা সরকারকে সমর্থনের পাশাপাশি আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থানের পক্ষে বক্তব্য দেন।বৈঠকে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, এফবিসিসিআইয়ের তৎকালীন সভাপতি মাহবুবুল আলম, বিজিএমইএর তৎকালীন সভাপতি এস এম মান্নান কচি, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের তৎকালীন চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।তাদের বক্তব্যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ এবং সরকারের পাশে থাকার অঙ্গীকারের বিষয়টি উঠে আসে। কয়েকজন নেতা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।এরপর ৫ আগস্ট ২০২৪ ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয় এবং তিনি দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। এরপর ওই সময়ে সরকারের সমর্থনে অবস্থান নেওয়া ব্যবসায়ী নেতাদের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়।বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে সমর্থন দেওয়া ২৪ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন।অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন—সালমান ফজলুর রহমান, মাহবুবুল আলম, এস এম মান্নান কচি, মোহাম্মদ সাইফুল আলম, নজরুল ইসলাম মজুমদার, হেলাল উদ্দিন, মোহাম্মদ হাতেম, নাসিম মঞ্জুর, আহমেদ আকবর সোবহান, আহসান খান চৌধুরী, এ কে আজাদসহ আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতা।এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগের তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাইয়ের আন্দোলন, তৎকালীন সরকারের ভূমিকা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অবস্থান এখন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত