প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬
ফিলিস্তিনি বন্দিদের কারাগার ঘিরে কুমিরের পরিখা খননের দাবি
মোঃ রাজিব হোসেন। ||
ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে ফিলিস্তিনি বন্দিদের রাখা একটি কারাগারের চারপাশে কুমির রাখার উদ্দেশ্যে পরিখা খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর। বুধবার (২২ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত কেতজিওত কারাগারের একটি বিশেষ উইং ঘিরে প্রায় ১৭০ মিটার দীর্ঘ পরিখা খননের কাজ শুরু হয়েছে।রামাত নেগেভ আঞ্চলিক কাউন্সিলের এক স্থানীয় কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়, পরিখাটি কারাগারের এমন একটি অংশে নির্মাণ করা হচ্ছে, যা বাইরে থেকে দেখা যায় না। এছাড়া, পরিবেশ সুরক্ষা মন্ত্রী ইদিত সিলমান নীল নদের কুমিরকে গৃহপালিত বন্যপ্রাণী হিসেবে নতুন শ্রেণিভুক্ত করার পর এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের দপ্তর এই প্রকল্পকে পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে। পরিখা নির্মাণ এবং কুমিরের পরিচর্যার জন্য প্রায় ২১ মিলিয়ন শেকেল, যা প্রায় ৬ দশমিক ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ, বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে কারা কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।তবে প্রকল্পটি নিয়ে ইসরায়েলের প্রকৃতি ও উদ্যান কর্তৃপক্ষ এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আইনি উপদেষ্টারা আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জরুরি বৈঠকও ডাকা হয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত কেতজিওত কারাগার ইসরায়েলের অন্যতম বৃহৎ কারাগার। গাজা ও পশ্চিম তীর থেকে আটক ফিলিস্তিনিদের সেখানে রাখা হয়। ফিলিস্তিনি কারাবন্দি বিষয়ক সংগঠনগুলোর দাবি, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দির সংখ্যা ৮৩ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ৬০০ ছাড়িয়েছে।এদিকে বন্দিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও কঠোর পরিবেশে আটকে রাখার অভিযোগও রয়েছে। ফিলিস্তিনি অধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, বন্দিদের পর্যাপ্ত খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে না এবং অমানবিক পরিবেশে রাখা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
সূত্র: ইনকিলাব
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত