প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে যা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মোঃ রাজিব হোসেন ||
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চললেও এ বিষয়ে সরকারের কাছে কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি যদি সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী অথবা স্বাস্থ্যগত কিংবা অন্য কোনো কারণে পদত্যাগ করতে চান, সে সুযোগ তাঁর রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকার কিছু জানে না।বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ অন্য মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে ‘কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা’ বিষয়ক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে সরকারের কোনো পদক্ষেপ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, এ বিষয়ে সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই।রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত রয়েছে—এ কথা উল্লেখ করে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেয়নি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে গুঞ্জনের খবর প্রকাশিত হচ্ছে, সেগুলো তিনিও দেখেছেন।রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ প্রশ্নের উত্তর রাষ্ট্রপতিকেই দিতে হবে।সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন—এমন খবর প্রকাশ হয়েছে। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি চিকিৎসার জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন এবং অসুস্থ হলে চিকিৎসা নেওয়াই স্বাভাবিক।আরেক প্রশ্নে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শেখ হাসিনার ফোনালাপের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কোনো জানা নেই এবং এমন কিছু শোনেননি।রাষ্ট্রপতি শারীরিক কারণে পদত্যাগের বিষয়টি সরকারকে জানিয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতি যদি স্বাস্থ্যগত বা অন্য কোনো কারণে পদত্যাগ করতে চান, সেটি তাঁর সাংবিধানিক অধিকার। তবে সরকারকে আগে থেকে জানানোর কোনো বিষয় নয়। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। এর বাইরে তাঁর কাছে আর কোনো তথ্য নেই।পরে বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে একই বিষয়ে আবার প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংক্ষিপ্ত জবাবে বলেন, “শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করেন।”যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীবৃহস্পতিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের কাছেও রাষ্ট্রপতির বিষয়টি জানতে চাওয়া হয়। সাংবাদিকরা বলেন, রাষ্ট্রপতি বিদেশ সফরের সময় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন বলে খবর প্রকাশ হয়েছে এবং এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর পদত্যাগের আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে কোনো তদন্ত বা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে কি না জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে তথ্যটি সত্য প্রমাণিত হলে সরকার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় তদন্ত করবে।মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। সে সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। পরবর্তী সময়ে সংসদ বিলুপ্ত করা, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।গণ-অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন রাষ্ট্রপতির অপসারণ দাবি করে এবং বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। তবে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে অপসারণের কোনো উদ্যোগ নেয়নি।পরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করলে রাষ্ট্রপতি ও সরকারের রাজনৈতিক পটভূমিতে ভিন্নতা তৈরি হয়। যদিও আওয়ামী লীগের মনোনয়নে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া সত্ত্বেও সরকার গঠনের পর বিএনপি তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণের উদ্যোগ নেয়নি। সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চললেও সরকার কিংবা বিএনপি প্রকাশ্যে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেনি।এর মধ্যে বুধবার রাতে সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন। তাঁর পদত্যাগের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি উল্লেখ করা হতে পারে।সরকার ও বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগের বিষয়ে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা পৌঁছানো হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।
সূত্র: প্রথম আলো
ছবি: প্রথম আলো
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত