প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬
জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটে চর কুকরি-মুকরী স্বাস্থ্যকেন্দ্র
সুজন সাহ , উপজেলা প্রতিনিধি চরফ্যাশন ||
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চল চরকুকরি-মুকরী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত। সীমিত জনবল নিয়েই স্থানীয়দের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা।স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে বিনামূল্যে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, প্রসবপূর্ব, প্রসবকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সেবাসহ বিভিন্ন জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা স্বাভাবিক প্রসবের (নরমাল ডেলিভারি) ব্যবস্থাও রয়েছে।বর্তমানে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে মাত্র একজন মিডওয়াইফ, একজন পরিবার কল্যাণ সহকারী (এফডব্লিউএ) ও একজন ক্লিনার কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে কোনো মেডিকেল অফিসার, ফার্মাসিস্ট ও পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (এফডব্লিউভি) না থাকায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে দ্রুত অন্তত একজন মেডিকেল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা নিয়োগ দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি আল্ট্রাসনোগ্রাফি, হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় রোগ নির্ণয়ের সুবিধাসহ একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপনেরও দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।বর্তমানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীদের নদীপথ পাড়ি দিয়ে দক্ষিণ আইচা বাজার অথবা চরফ্যাশন উপজেলা সদরে যেতে হয়। বৈরী আবহাওয়ায় নদীপথে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অনেক সময় প্রসূতি মায়েদের ঝুঁকি নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি রাখতে হয় বলে জানান দায়িত্বপ্রাপ্ত মিডওয়াইফ।স্থানীয় জনপ্রতিনিধি শারমিন আক্তার বলেন, চরকুকরি-মুকরীর অধিকাংশ মানুষ নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত। মাছ ধরাই তাদের প্রধান জীবিকা। কিন্তু স্বাস্থ্যসেবার দিক থেকে তারা এখনো অনেক পিছিয়ে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।রোগী তাহমিনা বলেন, মাত্র তিনজন স্টাফ দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চলছে। প্রয়োজনীয় ওষুধও সবসময় পাওয়া যায় না। চিকিৎসার আশায় এসে অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যান। স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাহাবুদ্দিন জানান, গত শনিবার চিকিৎসাজনিত জটিলতার মধ্যে তার স্ত্রী ও নবজাতক সন্তান দুজনকেই হারিয়েছেন। তার অভিযোগ, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ স্থানীয় বাজারে না পাওয়ায় সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।এ বিষয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মিডওয়াইফ চম্পা সুলতানা বলেন, ওই নবজাতকের গলায় নাভির নাড়ি তিনবার পেঁচানো ছিল। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আল্ট্রাসনোগ্রাফির ব্যবস্থা না থাকায় বিষয়টি আগে থেকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আল্ট্রাসনোগ্রাফির সুযোগ থাকলে দ্রুত রোগীকে উপজেলা হাসপাতালে রেফার করা যেত।তিনি আরও বলেন, গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত চারবার প্রসবপূর্ব সেবা গ্রহণের জন্য কাউন্সেলিং করা হয়। তবে সচেতনতার অভাব ও দারিদ্র্যের কারণে অনেকেই নিয়মিত সেবা নিতে আসেন না।স্থানীয়দের দাবি, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে জনবল বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত এবং আধুনিক রোগ নির্ণয়ের ব্যবস্থা করা হলে চরকুকরি-মুকরীর দুর্গম এলাকার হাজারো মানুষ সহজেই মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবে।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত