প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬
নাহিদ-আসিফ-মাহফুজের অন্তর্বর্তী সরকারে যোগ দেওয়া ঠিক হয়নি: মাহমুদুর রহমান
মোঃ রাজিব হোসেন। ||
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বিপ্লবীদের প্রতিনিধি হিসেবে নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলমের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন দৈনিক আমার দেশ–এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তাঁর মতে, সরকারের অংশ না হয়ে তাদের উচিত ছিল বাইরে থেকে বিপ্লবের মূল দর্শন প্রতিষ্ঠা এবং একটি নতুন বিপ্লবী রাজনৈতিক দল গঠনে কাজ করা।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর দ্য ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক স্মারক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ, বিশেষত শহীদ প্রকৌশলীদের স্মরণে’ এই সভার আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন ন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ (এনইএবি)।সরকারে তরুণ নেতাদের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গে মাহমুদুর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসরদের বর্তমান অবস্থানের পেছনে বিপ্লবীদের মধ্যে অনৈক্য এবং কিছু কৌশলগত সিদ্ধান্ত দায়ী। কিউবার বিপ্লবের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিপ্লবের ক্ষেত্রে হয় সবাই মিলে সরকার গঠন করতে হয়, নয়তো সরকারের বাইরে থেকে নেতৃত্ব দিতে হয়। তাঁর ভাষ্য, প্রচলিত ব্যবস্থার অধীনে গঠিত সরকারে যোগ দেওয়ার ফলে বিপ্লবীদের ওপর প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায়ও বর্তেছে। তারা যদি সরকারের বাইরে থাকতেন, তাহলে ক্ষমতার দায় এড়িয়ে ‘জুলাই দর্শন’ গড়ে তোলা এবং আন্দোলনের প্রকৃতি—অভ্যুত্থান, বিপ্লব নাকি আন্দোলন—এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ পেতেন।তবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্তকে তিনি শতভাগ সঠিক ও সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, সে সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতায় অধ্যাপক ইউনূসের কোনো বিকল্প ছিল না।আলোচনা সভায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছেলে ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবদুল্লাহিল আমান আযমী একটি নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, রাজনৈতিক সংঘাত কমাতে অরাজনৈতিক, দেশপ্রেমিক ও দূরদর্শী ব্যক্তিদের নিয়ে ‘জাতীয় পুনর্মিলন উদ্যোগ’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গঠনের কাজ শুরু করছেন। এর লক্ষ্য হবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ির সংস্কৃতি কমানো।অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ বলেন, অনেক জনপ্রতিনিধি আইন বা বিল সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা ছাড়াই কেবল চিফ হুইপের নির্দেশনা অনুযায়ী হ্যাঁ বা না ভোট দিয়ে থাকেন।প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি সরকারের নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করেন। জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুলকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সাধারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করছে এবং অনৈতিকভাবে সিসিটিভি নজরদারি বাড়িয়েছে।
এনইএবির আহ্বায়ক মো. আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সংসদ সদস্য আতিক মোজাহিদ, ঢাকা জেলা উত্তর শাখার আহ্বায়ক নাবিলা তাসনিদ, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম এবং শহীদ জাহিদুজ্জামান তানভীনের মা বিলকিস জামানসহ অন্যরা।সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব ছবি: দৈনিক ইনকিলাব
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত