প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬
হারাম উপার্জন মানুষের ইবাদত ও দোয়া কবুলের পথে বাধা
মোঃ রাজিব হোসেন। ||
ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, বাহ্যিক অপবিত্রতা থেকে মুক্ত হতে মানুষ অজু ও গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করে। তবে আত্মিক পবিত্রতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো হালাল উপার্জন। বৈধ উপায়ে অর্জিত জীবিকা একজন মুমিনের ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে পবিত্রতা এবং আল্লাহর বরকত বয়ে আনে।শুধু কঠোর পরিশ্রম করলেই উপার্জন হালাল হয়ে যায় না। অনেকেই নিরলস পরিশ্রম করলেও শরিয়তের দৃষ্টিতে তাদের উপার্জনের উৎস বৈধ নয়। বর্তমান সমাজে হারাম উপার্জনের প্রবণতা বাড়ছে। দুর্নীতি, ভেজাল ব্যবসা এবং ওজনে কম দেওয়ার মতো অনিয়মও এ প্রবণতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।ইসলামী শিক্ষায় বলা হয়েছে, হারাম উপার্জন সাময়িকভাবে সম্পদ এনে দিলেও এর নেতিবাচক প্রভাব ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের ওপর পড়ে। এটি মানুষের ইবাদতের ক্ষতি করে, জান্নাতের পথ সংকীর্ণ করে এবং জাহান্নামের পথ উন্মুক্ত করে। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “অবৈধ উপার্জনের খাদ্যে যে মাংসপিণ্ড বৃদ্ধি পায়, জাহান্নামই তার জন্য উপযুক্ত বাসস্থান।” (জামে তিরমিজি: ৬১৪)আরেক হাদিসে তিনি বলেন, “যে দেহ হারাম খাদ্য দিয়ে প্রতিপালিত হয়েছে, তা কখনোই জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” (মাজমাউজ জাওয়াইদ: ১৮১০৯)ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, হারাম উপার্জন মানুষের দোয়া কবুল হওয়ার অন্যতম বড় অন্তরায়। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা পবিত্র এবং তিনি কেবল পবিত্র ও হালাল জিনিসই গ্রহণ করেন।তিনি এমন এক ব্যক্তির উদাহরণ দেন, যিনি দীর্ঘ সফরের পর ধূলিমলিন অবস্থায় আল্লাহর কাছে হাত তুলে দোয়া করেন। কিন্তু তার খাদ্য, পানীয়, পোশাক এবং জীবিকা সবই হারাম উপায়ে অর্জিত। এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রশ্ন করেন, “এমন ব্যক্তির দোয়া কীভাবে কবুল হতে পারে!” (সহিহ মুসলিম: ১০১৫)ইসলামী শিক্ষায় আরও বলা হয়েছে, হারাম উপার্জন শুধু দোয়া কবুলের পথেই বাধা সৃষ্টি করে না, বরং মানুষের নেক আমল ও ইবাদতের সওয়াবও বিনষ্ট করতে পারে। তাই বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি উপার্জনের উৎস হালাল ও বিশুদ্ধ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক
ছবি: দৈনিক ইত্তেফাক
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত