প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬
কারাগারের নিরাপত্তায় যুক্ত হচ্ছে এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা
মোঃ রাজিব হোসেন। ||
রাজধানীর রামপুরায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান ওরফে ‘কাইল্লা পলাশ’কে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনা এবং কারাগার থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে।দীর্ঘ ২৫ বছর কারাভোগের পর সম্প্রতি মুক্তি পান শীর্ষ সন্ত্রাসী কাইল্লা পলাশ। গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কারাগারে থাকা দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী তার বিরুদ্ধে ‘কিলিং মিশন’-এর পরিকল্পনা করে। পরে রামপুরায় প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।কারা সংশ্লিষ্টদের মতে, কারাগার থেকে অপরাধের পরিকল্পনা, মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের মতো কর্মকাণ্ডের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এছাড়া আদালতে নেওয়ার পথে বন্দিদের বিভিন্ন স্থানে থামানো এবং কারাগারের ভেতরে মাদকের উপস্থিতির অভিযোগও রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।প্রথম ধাপে কেরানীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ কারাগারে এআই-সমৃদ্ধ সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। একই ধরনের প্রযুক্তি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারেও স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোতাহের হোসেন বলেন, আগে কোনো ঘটনা ঘটার পর তা তদন্ত করে কারণ ও দায়ী ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করা হতো। এখন এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্ভাব্য ঝুঁকির আগাম সতর্কতা পাওয়া যাচ্ছে, ফলে অনেক ঘটনা ঘটার আগেই প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, এআই ক্যামেরা কারাগারের ভেতরে মাদক, অস্ত্র বা অন্য কোনো নিষিদ্ধ বস্তু শনাক্ত করতে সক্ষম। এমন কিছু ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্কবার্তা পাঠাবে। কোনো বন্দি পালানোর চেষ্টা করলে অ্যালার্ম বাজবে। এছাড়া অপরাধের পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত নির্দিষ্ট কিছু কী-ওয়ার্ড শনাক্ত করে এআই ব্যবস্থা সতর্ক সংকেত দিতে পারবে। কারাগারের ভেতরে মোবাইল ফোনের ব্যবহার ঠেকাতে জ্যামারও স্থাপন করা হয়েছে।এই প্রযুক্তি শুধু বন্দিদের কার্যক্রমই নয়, দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের কর্মকাণ্ডও পর্যবেক্ষণ করবে। কোনো নিরাপত্তারক্ষী দায়িত্বে অবহেলা করলে, অলস বসে থাকলে বা ঘুমিয়ে পড়লে সেই তথ্যও সরাসরি কারা সদর দপ্তরে পৌঁছে যাবে।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক
ছবি: দৈনিক ইত্তেফাক
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত