প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬
শিক্ষার্থীদের ‘দেশের শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করছে মোদি সরকার: সোনিয়া গান্ধী
মোঃ রাজিব হোসেন। ||
জবাবদিহি দাবি করা শিক্ষার্থীদের মোদি সরকার ‘দেশের শত্রু’ হিসেবে দেখছে বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। তিনি বলেন, ভারতের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট এবং সরকারের জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতাই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রধান কারণ।সোনিয়া গান্ধীর ভাষ্য, ‘আলোচনার পথ অনুসরণ না করে মোদি সরকার বারবার বলপ্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছে। কৃষক আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের আচরণ দেখা গেছে।’তিনি আরও বলেন, ‘এবার সরকার আরও নিচে নেমেছে। ভবিষ্যতের চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা এবং দেশ গড়ার কারিগরদের প্রতি সহমর্মিতা দেখানোর পরিবর্তে তাদের ওপর রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। এ ধরনের আচরণ ক্ষমার অযোগ্য এবং মানুষও তা ভুলবে না।’শিক্ষা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে সোনিয়া গান্ধী বলেন, ‘বর্তমান ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট এবং সরকারের জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়ার মনোভাবই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মূল কারণ। একটি অনিশ্চিত ও হতাশাজনক শিক্ষাব্যবস্থার মুখোমুখি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ স্বাভাবিক। কিন্তু তাদের উদ্বেগ ও দাবির প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে সরকার দমনমূলক আচরণ করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।’এদিকে, দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে তিনি জানান, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শুক্রবার আরও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।চলমান বিক্ষোভ ও প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে এদিন এটি ছিল মোদির দ্বিতীয় বক্তব্য। এর আগে তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন।গভীর রাতের ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, ‘আমি জানি প্রশ্নফাঁস কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। তাই গত আড়াই মাসে সরকার এ বিষয়ে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।’তিনি জানান, অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ যাতে নষ্ট না হয়, সেটিকেও সরকার অগ্রাধিকার দিয়েছে। সে কারণে দ্রুত পরীক্ষা আয়োজন করা হয়েছে এবং প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।
তথ্যসূত্র: দ্য হিন্দু
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত