প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬
৫০০ টাকার গাছের দাম দেখানো হয়েছে ১ লাখ! থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পে নতুন করে অনিয়মের অভিযোগ
জাতীয় ডেস্ক: ||
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পে নতুন করে ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে অনুমোদনবিহীন ব্যয়, অতিরিক্ত বিল পরিশোধ এবং ভেরিয়েশনের নামে হাজার কোটি টাকার অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে।প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ব্যবহৃত ঝাউ, কৃষ্ণচূড়া, কাঠগোলাপসহ বিভিন্ন চারা গাছের প্রকৃত বাজারমূল্য ২০০ থেকে ৫০০ টাকা হলেও নথিতে কিছু গাছের মূল্য একেকটি সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত দেখানো হয়েছে। এসব গাছ ক্রয়ে প্রায় ২০ কোটি টাকা এবং পরিচর্যার জন্য আরও প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে।নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রকল্পে অনুমোদন ছাড়াই প্রায় ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা ভেরিয়েশনের মাধ্যমে ব্যয় করা হয়েছে। অথচ বিধি অনুযায়ী অতিরিক্ত কাজের জন্য সীমিত পরিমাণ ব্যয়ের সুযোগ থাকলেও প্রকল্পে তা অনেক গুণ বেশি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।এছাড়া পুকুর নির্মাণের নামে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়, মাটি পরিবহনে অতিরিক্ত ৮৩ কোটি টাকার বিল, চুক্তির বাইরে সফট ওপেনিং অনুষ্ঠানে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়সহ একাধিক খাতে প্রশ্নবিদ্ধ অর্থ পরিশোধের বিষয়ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ডিজেল পাম্প, ইউপিএস, জ্বালানি এবং অন্যান্য সরঞ্জাম ক্রয়েও অস্বাভাবিক ব্যয়ের অভিযোগ রয়েছে।ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, নিরীক্ষায় চিহ্নিত অনিয়মগুলো পরবর্তী সময়ে অনুমোদনের মাধ্যমে বৈধতা দেওয়া হলে তা হবে আরেকটি দুর্নীতির নজির। তিনি দায়ীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলমও বলেন, অনিয়মের অভিযোগ স্বাধীনভাবে তদন্ত করে অতিরিক্ত ব্যয়ের অর্থ আদায় এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম বন্ধ করা কঠিন হবে।এদিকে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পে উত্থাপিত সব অভিযোগ তদন্ত করা হবে। কারা অনিয়ম করেছে, কত টাকা অপচয় বা আত্মসাৎ হয়েছে এবং কারা জড়িত—সব বিষয় খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা হলে ভবিষ্যতে সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে।
সূত্র: যুগান্তর
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত