প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর নির্দেশেই মসজিদে হামলার অভিযোগ এমপি মোমেনের
মোঃ রাজিব হোসেন। ||
পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন অভিযোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইয়েদ আব্দুল্লাহর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় পাবনার সাঁথিয়ায় মসজিদে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী ও মুসল্লিদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছেন।শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ের ইমাম হোসাইন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান বলেন, দায়িত্বের সীমার বাইরে গিয়ে যদি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন, তাহলে এর দায় তাকেই বহন করতে হবে। প্রয়োজনে এ দায় প্রধানমন্ত্রীরও থাকবে। তার দাবি, সেদিন বড় ধরনের ষড়যন্ত্র হয়েছিল, যা জনগণ প্রতিহত করেছে।তিনি সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমানকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানান।এমপি মোমেনের অভিযোগ, ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। তার ভাষ্য, তিনি জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের হয়রানি করছেন এবং ফ্যাসিবাদের দোসরদের কাছ থেকে অর্থ নিচ্ছেন।তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার শিকার ব্যক্তিরা মামলা করতে থানায় গেলে গেট বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের মামলা করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।বিএনপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ এনে তিনি বলেন, জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে দলটি সন্ত্রাসীদের জড়ো করেছিল এবং পুলিশ তাদের হামলার সুযোগ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে তার সমর্থকদের বাড়িতেও হামলার অভিযোগ করেন তিনি।তার ভাষ্য, বিএনপি এ ঘটনার মাধ্যমে তাদের ফ্যাসিবাদী চরিত্রের পরিচয় দিয়েছে এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। তিনি আরও দাবি করেন, তাকে সেদিন স্বাভাবিকভাবে নামাজ আদায় করতেও দেওয়া হয়নি।নাজিবুর রহমান বলেন, রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। তার দাবি, ফ্যাসিবাদ বিদায় নিলেও তার প্রভাব এখনো রয়ে গেছে।মসজিদে ইমামতি করা নিয়ে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জনগণের ইচ্ছায় তিনি ইমামতি করেন। এ বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের অনুমতির প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন।নিজের পারিবারিক পরিচয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তার বাবার ফাঁসি হয়েছিল এবং তিনি সেই পরিবারের সন্তান। হামলার মুখেও তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যাবেন না বলেও জানান।বিকেলে ঘটে যাওয়া ছুরিকাঘাতের ঘটনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে নাটক সাজানো হচ্ছে। এছাড়া যাকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে, তিনি তাদের দলের কেউ নন বলেও দাবি করেন।সংবাদ সম্মেলনে সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা মোখলেসুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর অধ্যাপক আনিছুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি মোস্তফা কামাল মানিক, পৌর আমীর হাফেজ আব্দুল গফুর, জেলা যুব বিভাগের সেক্রেটারি তাইজুল ইসলামসহ জামায়াত ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র ও ছবি: ইনসাফ
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত