প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬
যশোরে ড্রামস কিনতে গিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ফরিদপুরের সংগীতশিল্পী
এস এম সাহান , জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর ||
ফেসবুকে ড্রামস বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখে যশোরে গিয়ে পরিকল্পিত প্রতারণার ফাঁদে পড়ার অভিযোগ করেছেন ফরিদপুরের সংগীতশিল্পী ও ড্রামার ফ্রাংঙ্ক ব্রত। তার দাবি, অভিযুক্তদের সন্দেহজনক আচরণ এবং বারবার নগদ অর্থ সঙ্গে আছে কি না তা নিশ্চিত করার চেষ্টায় সতর্ক হয়ে যাওয়ায় তিনি সম্ভাব্য বড় ধরনের প্রতারণার শিকার হওয়া থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পান।ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, যশোর শহরের মনিহার বাঁশতলা এলাকার আতিব জুনায়েদ নামে এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে Alesis ব্র্যান্ডের একটি ড্রামস বিক্রির বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেন। বিজ্ঞাপন দেখে ফ্রাংঙ্ক ব্রত তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। উভয়ের মধ্যে দরদাম চূড়ান্ত হলে অভিযুক্ত তাকে যশোরে গিয়ে ড্রামস দেখে মূল্য পরিশোধ করে নিয়ে যেতে বলেন।শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে ফ্রাংঙ্ক ব্রত একটি প্রাইভেটকার ভাড়া করে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। যশোরের মনিহার সিনেমা হল এলাকায় পৌঁছানোর পর অভিযুক্তের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে তাকে বাঁশতলা মোড়ে যেতে বলা হয়। পরে সেখান থেকে তাকে একটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে ড্রামস পরীক্ষা করে দেখার কথা বলা হলেও ভুক্তভোগীর দাবি, সেখানে আগে থেকেই পরিকল্পিতভাবে কয়েকজন অবস্থান করছিল।ফ্রাংঙ্ক ব্রতের অভিযোগ, বাসায় নেওয়ার পর থেকেই অভিযুক্তরা বারবার জানতে চান তার কাছে নগদ টাকা রয়েছে কি না। একই সঙ্গে একজন অভিযুক্ত বারবার বিভিন্ন কক্ষে যাতায়াত করতে থাকলে তার মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি জানান, তার কাছে কোনো নগদ অর্থ নেই; প্রয়োজন হলে এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে পরিশোধ করবেন।এরপরও আতিব জুনায়েদ তাকে আলাদা একটি কক্ষে নিয়ে যান, যেখানে আগে থেকেই আরেক ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন। সেখানে আবারও তার কাছে নগদ অর্থ আছে কি না তা জানতে চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি নগদ টাকা সঙ্গে নেই বলে জানালে কিছুক্ষণ পর অভিযুক্ত হঠাৎ ঘোষণা দেন, তিনি আর ড্রামস বিক্রি করবেন না।ভুক্তভোগীর ভাষ্য, এত দূর ফরিদপুর থেকে যশোরে ডেকে এনে হঠাৎ ড্রামস বিক্রি না করার কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিতে থাকেন।ফ্রাংঙ্ক ব্রতের দাবি, পুরো ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত একটি প্রতারণার অংশ। প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাকে দূর-দূরান্ত থেকে ডেকে আনা হয়। এরপর বারবার নগদ অর্থ সঙ্গে আছে কি না তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়। তার ধারণা, সঙ্গে নগদ অর্থ রয়েছে—এমনটি নিশ্চিত হতে পারলেই কৌশলে অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া বা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু নগদ টাকা না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই অভিযুক্তরা বিক্রির সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ায় এবং উল্টো ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন শুরু করে।তিনি আরও জানান, পরদিন (রোববার) তার কলেজের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা থাকায় নিজের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ থেকে দ্রুত সরে এসে ফরিদপুরে ফিরে যেতে বাধ্য হন। ফলে ঘটনাস্থলেই যশোর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও তিনি জানান।এ বিষয়ে অভিযুক্ত আতিব জুনায়েদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। অনলাইন কেনাবেচার ক্ষেত্রে অপরিচিত ব্যক্তির ডাকে নির্জন স্থানে না যাওয়া, নগদ অর্থ বহন না করা, নিরাপদ স্থানে লেনদেন করা এবং সন্দেহজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সচেতন মহল।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত