প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬
এমপি নজরুলকে ঘিরে একের পর এক বিতর্কিত ভিডিও প্রকাশ
মোঃ রাজিব হোসেন। ||
নারীসংক্রান্ত বিতর্কের পর জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে নতুন নতুন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। এসব ভিডিও সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর তথ্যও আলোচনায় আসছে। ভিডিওগুলো প্রকাশের পর তাকে নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।সর্বশেষ প্রকাশিত একটি ভিডিওতে গাজী নজরুল ইসলামকে এক নারীর সঙ্গে একটি হোটেলের করিডর, লবি ও সিঁড়িঘরে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। এ ঘটনায় একজন সংসদ সদস্যের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং ব্যক্তিগত জীবনের নৈতিকতা নিয়ে আলোচনা এখন শুধু ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’ বা দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়েই সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা সংসদ, সংবিধান ও আইনি বিতর্কের বিষয়েও পরিণত হয়েছে। দলীয় ও ব্যক্তিগত নানা সংকটের কারণে তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।এদিকে, গাজী নজরুল ইসলাম, আমিনুর রহমানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় আমিনুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন মাসুম বিল্লাহ, মোতাসসিম বিল্লাহ এবং রাকিবুল হাসান।অন্যদিকে, গাজী নজরুল ইসলামের নির্বাচনী এলাকা শ্যামনগরের প্রেস ক্লাব চত্বরে ‘সর্বস্তরের ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তারা তার সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের দাবি জানান।বহিষ্কারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার আরও একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে একটি হোটেলে প্রবেশ করছেন। হোটেলের রিসিপশনে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে করমর্দনের পর তারা ভেতরে যান। পরে হোটেলের লবি, করিডর, লিফট ও সিঁড়িঘরে ওই নারীর সঙ্গে তাকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে দাবি করেন, মরিয়াম বেগমের সঙ্গে ‘অবৈধ’ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং বিষয়টি গোপন রাখার উদ্দেশ্যে তার বাবা মাসুম বিল্লাহকে ঠিকাদারি লাইসেন্স করে দিয়ে সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখান সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। পাশাপাশি তাকে কোটিপতি বানিয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম ছিল ‘মাসুম এন্টারপ্রাইজ’। মাসুমের দায়িত্ব ছিল শুধু দরপত্র জমা দেওয়া, আর কাজ পাইয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নেন গাজী নজরুল নিজেই।ওবায়দুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, মাসুম কন্ট্রাক্টরির কাজ সম্পর্কে তেমন কিছু জানতেন না। এ দায়িত্ব তিনি ওবায়দুরের ওপর দেন। ওবায়দুর জানান, তিনিও এসব বিষয়ে অভিজ্ঞ ছিলেন না। এরপরও খেজুরের ব্যবসা বন্ধ রেখে তিনি টেন্ডারের বিষয়গুলো দেখাশোনা করতেন। তিনি আরও জানান, সাতক্ষীরার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একাধিক প্রকল্পে দরপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল।ওবায়দুর রহমানের দাবি, টাকার লোভে মরিয়ামের মা-বাবা সংসদ সদস্যের সঙ্গে মেয়ের সম্পর্ক নিয়ে আপত্তি করেননি। তিনি জানান, গাড়িচালক হিসেবে তিনি মরিয়ামের মামা। গাজী নজরুল ইসলাম মরিয়ামের বাবা মাসুম বিল্লাহর খালু হওয়ায় মরিয়াম এমপির নাতনি হন। ওবায়দুরের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বোনের স্বামী মাসুম বিল্লাহ তাকে বলেছিলেন, ‘এমপিকে হাতে রাখতে হবে। পাঁচ বছরে আমাদের অনেক কিছু করে নিতে হবে।’তিনি আরও অভিযোগ করেন, মরিয়ম বেগমকে জাতীয় সংসদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তার ভাষ্য, মেয়েকে বলা হতো সংসদে চাকরি দেওয়া হবে এবং বাবাকে বড় বড় কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। এ ধরনের আশ্বাস ও প্রলোভনের মাধ্যমেই পুরো বিষয়টি চলছিল বলে তিনি দাবি করেন।
সূত্র:ইত্তেফাক/এসজ
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত