প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬
পদার্থবিজ্ঞানের পর এবার রসায়ন পরীক্ষার প্রশ্নেও একাধিক ভুলের অভিযোগ
মোঃ রাজিব হোসেন। ||
চলতি এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় আবারও প্রশ্নপত্রে ভুলের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২২ জুলাই) অনুষ্ঠিত রসায়ন দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষার সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনী—উভয় অংশেই একাধিক ত্রুটি রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও পরীক্ষার্থীরা।তাদের দাবি, প্রশ্নপত্রের এসব ভুলের কারণে পরীক্ষার্থীরা বিভ্রান্তির পাশাপাশি মানসিক চাপের মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী প্রশ্নগুলো সঠিকভাবে সমাধান করতে সক্ষম ছিলেন, তারাই তুলনামূলক বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন।এর আগে পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের প্রশ্নে দুটি বড় ধরনের ভুল শনাক্ত হওয়ার পর ওই প্রশ্নগুলোর জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার ঘোষণা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।রসায়ন দ্বিতীয়পত্রের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে বিষয়-সংশ্লিষ্ট একাধিক শিক্ষক জানান, সৃজনশীল প্রশ্নের ১ নম্বর উদ্দীপকের (II) অংশে বিক্রিয়ক থেকে চারটি উৎপাদ পাওয়া গেলেও কোন উৎপাদের ভর ২ দশমিক ৫ গ্রাম, তা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে জারকের ভর নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি।এ ছাড়া ৫ নম্বর উদ্দীপকে ‘পাত্র-১’ উল্লেখ থাকলেও ‘গ’ ও ‘ঘ’ প্রশ্নে সেটিকে ‘A-পাত্র’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে।৬ নম্বর উদ্দীপকের ‘গ’ প্রশ্নে ২৫০ মিলিলিটার গ্যাস উৎপন্ন করতে প্রয়োজনীয় মাতৃ যৌগের পরিমাণ নির্ণয়ের জন্য গ্যাসটির তাপমাত্রা ও চাপের তথ্য দেওয়া হয়নি। একই উদ্দীপকের ‘ঘ’ প্রশ্নে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী CO₂ গ্যাসের জন্য Z-এর মান ৪ দশমিক ০ আসে, যা বাস্তব গ্যাসের ধর্ম এবং তরলীকরণ তত্ত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।অন্যদিকে, ৮ নম্বর উদ্দীপকের ‘ঘ’ প্রশ্নে ‘ভ্যান ডার ওয়ালস’ সমীকরণকে ‘আদর্শ গ্যাসের সমন্বয় সমীকরণ’-এর পরিবর্তিত রূপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি সংজ্ঞাগতভাবে ভুল। তবে দেশের কয়েকটি পাঠ্যবইয়ে একই ধরনের ব্যাখ্যা রয়েছে।শুধু সৃজনশীল অংশ নয়, বহুনির্বাচনী অংশেও ভুলের অভিযোগ উঠেছে। যমুনা (ঘ) সেটের ১০ নম্বর প্রশ্নে কোনো সঠিক উত্তর নেই বলে দাবি করেছেন শিক্ষকরা। তাদের ভাষ্য, পাঠ্যবই অনুযায়ী শুধুমাত্র iii সঠিক হলেও প্রশ্নে সেটি একক উত্তর হিসেবে দেওয়া হয়নি।বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থী ইমতিয়াজ নোমান বলেন, প্রশ্ন সমাধানের সময় কয়েকটি উদ্দীপক ও তথ্য নিয়ে তিনি বিভ্রান্তিতে পড়েন। অনেক সময় ব্যয় করেও নিশ্চিত হতে পারেননি। বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্নে এমন ভুল থাকবে, তা তিনি কল্পনাও করেননি। ফলে সময় নষ্ট হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত কিছু উত্তরে অনুমানের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মিশু খান লেখেন, ‘এর আগেও পরীক্ষায় কিছু নম্বর বোনাস পেয়েছি, এবারও কিছু নম্বর বোনাস পাবো। এটাই সায়েন্স।’বাংলাদেশ বিজ্ঞান পরিষদের সভাপতি ও রসায়নের শিক্ষক আরিফ হক বলেন, প্রশ্নপত্রে ভুল নতুন কোনো বিষয় নয়। এ ধরনের ত্রুটি শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি পরীক্ষার সময় অযথা নষ্ট করে।তিনি আরও বলেন, প্রশ্নপত্রের ভুলের জন্য শুধু প্রশ্নপ্রণেতা নন, কিছু ক্ষেত্রে পাঠ্যবই ও সিলেবাসের অসঙ্গতিও দায়ী। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের ওপর, কারণ তারা প্রতিটি তথ্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তুলনামূলক বেশি সময় ব্যয় করেন।
সূত্র: ইত্তেফাক/এনটিএম
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত