প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬
একরামুল হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন, ৮ জনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
মোঃ রাজিব হোসেন। ||
কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছে প্রসিকিউশন। ২০১৮ সালে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় সংঘটিত আলোচিত এ ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন রোববার (২৬ জুলাই) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ দাখিল করা হয়।বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে প্রবেশ করেছে। একরামুল হক হত্যাকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও অভিযোগের প্রেক্ষাপটে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের নোয়াখালিয়াপাড়া এলাকায় র্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন টেকনাফ পৌরসভার তৎকালীন কাউন্সিলর একরামুল হক। সে সময় তাঁর বয়স ছিল ৪৬ বছর। মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হলেও ঘটনাটি শুরু থেকেই নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।একরামুল হকের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারের দাবি জানায়। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড প্রকাশ্যে এলে ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। ওই অডিওকে কেন্দ্র করে কথিত বন্দুকযুদ্ধের সরকারি বয়ান নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে।ঘটনার কয়েক বছর পর বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার আওতায় আসে। তদন্ত শেষে শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে। তবে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া মানেই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়। পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমে সাক্ষ্য, প্রমাণ ও অন্যান্য উপাদান যাচাইয়ের মাধ্যমে অভিযোগের ভিত্তি মূল্যায়ন করা হবে।প্রকাশিত তথ্যে শেখ হাসিনাসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা উল্লেখ করা হলেও, আসামিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এবং প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আনা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তাই যাচাই ছাড়া কারও বর্তমান অবস্থান, পদবি বা গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য চূড়ান্ত হিসেবে উল্লেখ করা সমীচীন নয়।বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং কথিত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে একরামুল হক হত্যা অন্যতম। তাঁর মৃত্যুর পর মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমের দিকে সংশ্লিষ্টদের নজর রয়েছে।
সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব
ছবি: দৈনিক ইনকিলাব
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত