প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬
বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সপরিবারে গুলশানের বাসায়, শিগগির বিদেশে চিকিৎসার পরিকল্পনা
মোঃ রাজিব হোসেন। ||
সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবন ত্যাগ করেছেন। শুক্রবার পদত্যাগের পর রোববার বেলা আড়াইটার কিছু আগে তিনি সপরিবারে বঙ্গভবন থেকে বের হয়ে রাজধানীর গুলশানের ১২৩ নম্বর সড়কে অবস্থিত নিজ বাসভবনের উদ্দেশে রওনা হন।বঙ্গভবন থেকে বের হওয়ার সময় তাঁর গাড়িবহরে রাষ্ট্রপতির ব্যবহৃত গাড়িসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোট ১৮টি যানবাহন ছিল। টানা তিন বছর চার মাস বঙ্গভবনে দায়িত্ব পালনের পর তিনি গুলশানের নিজ বাসায় ফিরে যান। নির্ধারিত পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বছর আট মাস আগেই তিনি দায়িত্ব ছেড়ে নিজ বাসভবনে ফিরলেন।বঙ্গভবন ছাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে দুপুর থেকেই বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা সেখানে অবস্থান নেন। একই সঙ্গে উৎসুক মানুষও বঙ্গভবনের সামনের সড়কে জড়ো হন। এ সময় নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়।পদত্যাগের পর গুলশানের বাসভবনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সকাল থেকেই পুলিশ, র্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা সেখানে দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে তিনি ওই বাড়ির পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবন ছাড়ার পর সেখানে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।গত শনিবার ফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক রাষ্ট্রপতি জানান, চিকিৎসার জন্য তিনি শিগগির সিঙ্গাপুর অথবা ব্যাংকক যেতে চান। তিনি বলেন, জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, তাঁর স্ত্রী রেবেকা সুলতানাও অসুস্থ এবং চিকিৎসার জন্য তাকেও সঙ্গে নিয়ে যাবেন।শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে শুক্রবার তিনি স্বেচ্ছায় রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছেন। সম্প্রতি তাঁর হৃদ্যন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে এবং তিনি ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ নামের একটি জটিল রোগেও আক্রান্ত। এ কারণে তিনি মাঝে-মধ্যে স্বল্প সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন বলেও পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন।তিনি জানান, বঙ্গভবন ছাড়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কয়েক দিন ধরেই তাঁর ব্যক্তিগত মালামাল গুলশানের বাসায় স্থানান্তর করা হচ্ছিল। পাশাপাশি বাসভবনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারকাজও সম্পন্ন করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল তিনি দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন।সংবিধানের চতুর্থ ভাগের প্রথম পরিচ্ছেদের ৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অথবা অনুপস্থিতি কিংবা অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সেই বিধান অনুযায়ী বর্তমান স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
সূত্র: সমকাল
ছবি: সমকাল
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত