প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬
শেরপুরে অবৈধ অটোরিকশার দৌরাত্ম্যে চরম যানজট, দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ
মোঃ রাজিব হোসেন। ||
শেরপুর জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলা সদরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশার লাগামহীন চলাচলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। জেলা সদর থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের প্রধান সড়কগুলোতে প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকায় জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে শেরপুরের যানজট রাজধানীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তিকেও ছাড়িয়ে গেছে। পর্যাপ্ত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে মাত্র ১০ মিনিটের পথ অতিক্রম করতে অনেক সময় এক ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে।সরেজমিনে দেখা যায়, শেরপুর জেলা শহরে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার এবং প্রতিটি উপজেলা সদরে ৪ থেকে ৫ হাজার সিএনজিচালিত ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। অন্যদিকে, শহরের সড়কগুলো তুলনামূলকভাবে অপ্রশস্ত এবং অধিকাংশ যানবাহনের বৈধ লাইসেন্স না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। প্রধান সড়কের দুই পাশে মৌসুমি ফল ও সবজির দোকান স্থায়ীভাবে বসে গেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে অবৈধ বাস ও সিএনজি স্ট্যান্ড। রাস্তার মাঝখানে গাড়ি ঘোরানো এবং যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামা করানোর কারণে যানজট আরও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। বিশেষ করে সকাল ১০টার পর শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।নাগরিকদের অভিযোগ, ছোট যানবাহনের পাশাপাশি দিনের ব্যস্ত সময়ে রড, সিমেন্ট ও টিন বহনকারী ভারী ট্রাক শহরে প্রবেশ করায় যানজট আরও বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে সড়কের ওপরই মালবোঝাই ট্রাক দাঁড় করিয়ে লোড-আনলোডের কাজ করা হয়। পথচারীরা জানান, ফুটপাত দোকানিদের দখলে থাকায় হেঁটে চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া ঝিনাইগাতী উপজেলা সদরের মতো কিছু এলাকায় বহুতল ভবনের ড্রেনেজ লাইন সরকারি ড্রেনের সঙ্গে সংযুক্ত করায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেরও সৃষ্টি হচ্ছে। সড়কের ওপর ব্যক্তিগত প্রাইভেট কারের অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে রাস্তা আরও সংকুচিত হয়ে পড়ছে।স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, যানজটের কারণে পণ্য পরিবহন এবং ক্রেতাদের যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটছে, ফলে ব্যবসায় মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, সড়কের দুই পাশ যেন অস্থায়ী বাজারে পরিণত হয়েছে, কিন্তু এগুলো সরাতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মোট কতটি যানবাহন চলাচল করছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছেও নির্ভুল কোনো পরিসংখ্যান নেই। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ এবং ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য সুশৃঙ্খল নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন শেরপুরবাসী। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এ যানজট জেলার অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল-আমিন দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, এ সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব
ছবি: দৈনিক ইনকিলাব
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত