প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬
রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম আলোচনায়, কী বলছেন বিশ্লেষকরা
মোঃ রাজিব হোসেন। ||
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হবেন—এ প্রশ্নে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় এলেও সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বর্তমানে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের দক্ষতা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং বিভিন্ন মহলে গ্রহণযোগ্যতার কারণে অনেকেই তাকে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখছেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং সংকটের সময় ভারসাম্যপূর্ণ নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মির্জা ফখরুলকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক পদে এমন একজনের প্রয়োজন, যিনি দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রের অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে পারবেন।বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি সরকার গঠন করলে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব এমন একজনকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেছে নিতে চাইবে, যিনি সংকটময় পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। সাম্প্রতিক কয়েকটি জনসভায় মির্জা ফখরুল নিজেই নির্বাচন করে রাজনীতি থেকে অবসরের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সে কারণে তাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হলে তা তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাদের মতে, তিনি শুধু বিএনপির মহাসচিব নন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। তার মতো একজনকে রাষ্ট্রপতি করা হলে সংসদীয় গণতন্ত্রের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পাবে।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শামছুল আলম সেলিম কালবেলাকে বলেন, অতীতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না। তাই তার মতে, এমন একজনকে রাষ্ট্রপতি করা উচিত, যিনি সর্বজনগ্রহণযোগ্য, প্রাজ্ঞ এবং দলের প্রতি আনুগত্যশীল।তিনি আরও বলেন, জিয়া পরিবারের পাশাপাশি দলের প্রতিও আনুগত্য থাকা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, অন্যের ওপর তা ছেড়ে দেওয়া উচিত হবে না। কারণ দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে তিনি নেতাদের কর্মকাণ্ড ও অবদান পর্যবেক্ষণ করেছেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতিকে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য, শ্রদ্ধাভাজন, সৎ, দক্ষ ও সাহসী হতে হবে। অতীতে দায়িত্ব পাওয়া অনেকেই শুধু পদ অলংকৃত করেছেন, কিন্তু দলের দুঃসময়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি। বিশেষ করে ইয়াজ উদ্দিন আহমেদের সময় অনেক কিছু করার সুযোগ থাকলেও তিনি তা করতে পারেননি বলে মন্তব্য করেন তিনি।ড. শামছুল আলম সেলিম আরও বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রাখতে হবে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. স ম আলী রেজা কালবেলাকে বলেন, বিএনপিতে রাষ্ট্রপতি হওয়ার মতো যোগ্য বর্ষীয়ান নেতার অভাব নেই। তবে শারীরিকভাবে সক্ষম এবং সংকটকালে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন—এমন ব্যক্তিকেই তিনি রাষ্ট্রপতি পদের জন্য উপযুক্ত মনে করেন। তার মতে, এ ক্ষেত্রে বিএনপির মহাসচিব সবচেয়ে যোগ্য এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে একজন রাজনীতিবিদকেই নির্বাচন করা উচিত।সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে এমন একজনকে নির্বাচন করা প্রয়োজন, যিনি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখেন। সংবিধান, আইন, বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে তার সুস্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। তার মতে, রাষ্ট্রপতির পদ দেশের সর্বোচ্চ মর্যাদার আসন। তাই এ পদে একজন প্রাজ্ঞ, সৎ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিত্ব থাকা প্রয়োজন, যিনি দলীয় দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন এবং যার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের কোনো অভিযোগ নেই। রাষ্ট্রের মর্যাদা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় অভিজ্ঞ ও নৈতিক নেতৃত্বই সবচেয়ে উপযুক্ত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সূত্র: কালবেলা
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত