প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬
পদ্মার ভাঙনে বসতঘর নদীগর্ভে, ঝুঁকিতে প্রায় ১ হাজার পরিবার
মোঃ রাজিব হোসেন। ||
পদ্মা নদীর পানি বাড়তে থাকায় শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পালেরচর ও পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের কবলে পড়ে ইতোমধ্যে ১২টি বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১ হাজার পরিবার ভাঙনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে জাজিরা উপজেলার পালেরচর ও পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের কাথুরিয়া, মধু মাদবরের কান্দি ও পৈলান মোল্লার কান্দিসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীভাঙন শুরু হয়।ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মা নদীর পানি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে ভাঙন আরও তীব্র হয়েছে। সোমবার রাতে পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া গ্রামের লাবলু মল্লিক, জাহানারা আক্তার, মধু বিবি, মানিক মাদবর ও আয়মন বেগমসহ ১২টি পরিবারের বসতঘর নদীগর্ভে চলে যায়। এছাড়া পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের মধু মাদবরের কান্দি ও পৈলান মোল্লার কান্দি এলাকায় প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে।ভাঙনের আতঙ্কে দুই ইউনিয়নের অন্তত ১০০টি পরিবার তাদের বসতঘর অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে কয়েক একর ফসলি জমি, অসংখ্য গাছপালা এবং বিভিন্ন স্থাপনা। অনেক পরিবার সবকিছু হারিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত স্থায়ী নদীরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।পালেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন ফরাজী বলেন, সোমবার রাতে ৮ থেকে ১০টি বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১ হাজার মানুষ ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছেন।কাথুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা হযরত আলী ও রইছ উদ্দিন জানান, কয়েক বছরের নদীভাঙনে তাদের ফসলি জমি, গাছপালা ও বসতভিটা নদীগর্ভে চলে গেছে। গত এক সপ্তাহের ভাঙনে শেষ সম্বল পৈতৃক ভিটাও হারানোর উপক্রম হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, এখনো কোনো সরকারি সহায়তা পাননি।স্থানীয় বাসিন্দা শামসুল হক, লাবলু মল্লিক ও সুফিয়া বেগম জানান, সোমবার রাতে মাইকিং শুনে ঘুম থেকে উঠে তারা নদীভাঙনের বিষয়টি জানতে পারেন। অল্প সময়ের মধ্যেই কয়েকটি বসতঘর নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ঘরের মালামাল সরিয়ে নেওয়ারও সুযোগ পাননি তারা।আরিফুল ইসলাম মানিক বলেন, সোমবার রাত থেকে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। কাথুরিয়া গ্রাম থেকে খালেক ফকিরের কান্দি পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরান বলেন, পূর্ব নাওডোবা ও পালেরচর ইউনিয়নে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকায় আটটি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্যসহায়তা দেওয়ার জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও স্থানীয় চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।এ বিষয়ে শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: যুগান্তর
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত