প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬
বিলকিস বানু মামলার দণ্ডপ্রাপ্তদের মুক্তির সমর্থককে শিক্ষামন্ত্রী করায় মোদী সরকারের সমালোচনায় রাহুল
মোঃ রাজিব হোসেন। ||
ভারতের বহুল আলোচিত বিলকিস বানু গণধর্ষণ মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মুক্তির পক্ষে বক্তব্য দেওয়া প্রলহাদ জোশীকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।মঙ্গলবার সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি শিক্ষামন্ত্রীকে “ধর্ষকদের রক্ষক” বলে উল্লেখ করেন। রাহুলের ভাষ্য, নরেন্দ্র মোদী এমন একজনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন, যিনি এ ধরনের বিষয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর অবস্থান নিয়েছেন।সংসদ ভবনের বাইরে দেওয়া বক্তব্যে রাহুল গান্ধী বলেন, “দেশজুড়ে যখন শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তরুণ ও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে এবং বহু ছাত্রী পুলিশের লাঠিচার্জের শিকার হচ্ছে, ঠিক সেই সময় মোদী সরকার এমন একজনকে শিক্ষামন্ত্রী করেছে, যিনি ধর্ষকদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। এর চেয়ে নোংরা মানসিকতা আর হতে পারে না। যে ব্যক্তি ধর্ষকদের সুরক্ষার কথা বলে, তার চেয়ে নিকৃষ্ট কেউ হতে পারে না।”তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদীর মন্ত্রিসভায় অনেক বিকল্প থাকা সত্ত্বেও তিনি এমন একজন ব্যক্তিকেই শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে বেছে নিয়েছেন। বিষয়টি অত্যন্ত আশ্চর্যজনক এবং হতাশাজনক।”এদিকে কংগ্রেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রলহাদ জোশীর একটি পুরোনো ভিডিও প্রকাশ করেছে। ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার সময় বিলকিস বানুকে গণধর্ষণ এবং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত ১১ জন আসামির মুক্তির সিদ্ধান্তের পক্ষে ওই ভিডিওতে জোশীকে বক্তব্য দিতে দেখা যায়।তৎকালীন কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, “আইনি প্রক্রিয়া মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাই এতে ভুল কিছু দেখি না।” এছাড়া কারাবন্দি অবস্থায় আসামিদের তথাকথিত “ভালো আচরণ” এবং দীর্ঘ সাজা ভোগ করার বিষয়টি উল্লেখ করে তাদের মুক্তির পক্ষেও মত দেন তিনি।একই ইস্যুতে মোদী সরকারের সমালোচনা করেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র। লোকসভায় প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় জালিয়াতিবিরোধী একটি বিলের ওপর আলোচনায় তিনি বলেন, “একদিকে সরকার নারী অধিকার ও নারী সংরক্ষণের কথা বলছে, অন্যদিকে ধর্ষণ মামলার সাজাপ্রাপ্তদের মুক্তির সমর্থনকারী একজনকে শিক্ষামন্ত্রী করে সমাজে ভুল বার্তা দেওয়া হচ্ছে।”প্রিয়াঙ্কার এ বক্তব্যের পর লোকসভায় ট্রেজারি বেঞ্চের সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তব্যের প্রমাণ দাবি করেন। জবাবে তিনি বলেন, প্রলহাদ জোশীর ওই বক্তব্যের সম্পূর্ণ ভিডিও কংগ্রেসের কাছে রয়েছে।উল্লেখ্য, গুজরাট সরকার বিলকিস বানু মামলার দণ্ডপ্রাপ্তদের আগাম মুক্তি দিলে তা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। পরে ২০২৪ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ওই মুক্তির সিদ্ধান্তকে বেআইনি ও একতিয়ারবহির্ভূত ঘোষণা করে বাতিল করেন এবং দণ্ডপ্রাপ্তদের পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, নারী নিরাপত্তা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যেই রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর এই সমালোচনা মোদী সরকারকে নতুন করে চাপে ফেলেছে।
সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত