প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬
লিবিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত
মোঃ রাজিব হোসেন। ||
লিবিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল এমাদ মোস্তফা আল-তরাবলুসির সঙ্গে বৈঠক করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ।স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে লিবিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সার্বিক কল্যাণ ও নিরাপত্তা, স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন, অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ, দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।বৈঠকের শুরুতে লিবিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশ ও লিবিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সততা, দক্ষতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীরা লিবিয়ার জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন।তিনি আরও বলেন, অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ এবং স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের নিয়মতান্ত্রিক অবস্থান নিশ্চিত করা লিবিয়া সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী বৈধ ও নিয়মিত অভিবাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লিবিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণ করবেন।জবাবে রাষ্ট্রদূত মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশি নাগরিকরা লিবিয়ার সেবা, নির্মাণ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছেন। তিনি লিবিয়ার জাতীয় ঐকমত্য সরকারের উদ্যোগে বাংলাদেশি নাগরিকদের স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বর্তমানে স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের দ্রুত দেশে ফেরাতে মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশি নাগরিকদের স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার আশ্বাস দেন।বৈঠকে রাষ্ট্রদূত অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে এ বিষয়ে লিবিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি দুই দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সফরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।এ ছাড়া, লিবিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশিদের কল্যাণে সহযোগিতা এবং অপহরণ ও জিম্মি অবস্থায় থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের উদ্ধারে লিবিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন।বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন এবং বাংলাদেশ-লিবিয়া সহযোগিতা আরও জোরদার করতে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হন।
সূত্র: যুগান্তর।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত