প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬
দেশে ‘নির্লজ্জ দলীয়করণ’ চলছে: জামায়াত আমির
মোঃ রাজিব হোসেন। ||
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদমুক্ত, বৈষম্যহীন এবং ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। তবে সেই প্রত্যাশা পূরণের পরিবর্তে দেশে এখন ‘নির্লজ্জ দলীয়করণ’ চলছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার দাবি, সরকারি, বেসরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমা, করপোরেশন, প্রশাসনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্য ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীতে ঢাকা মহানগর জামায়াত আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তি ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা পরিষদ, প্রশাসন, ব্যাংক-বীমা ও করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ চলছে। তার ভাষায়, এটি এক ধরনের নতুন কোটা ব্যবস্থা। তিনি অভিযোগ করেন, সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের সরিয়ে অসৎ ও দুর্নীতিবাজদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানো হচ্ছে, যাতে দুর্নীতির পরিবেশ সৃষ্টি করা যায়।তিনি আরও বলেন, যারা জীবন দিয়েছেন, তারা একটি দলকে সরিয়ে আরেকটি দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য আত্মত্যাগ করেননি। তাদের লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সিস্টেমের পরিবর্তন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশ আবার আগের অন্ধকার সময়ের দিকে ফিরে যাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।জামায়াত আমির বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় অনেক রাজনৈতিক দল এটিকে কেবল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন হিসেবে দেখলেও জামায়াতে ইসলামী প্রকাশ্যে দেশবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের আন্দোলনরত তরুণদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিল। তবে আন্দোলন সফল হওয়ার পরও দলটি কখনো এর কৃতিত্ব দাবি করেনি।তিনি বলেন, আন্দোলনের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে নিজেদের দাবি করা হয়নি, কিংবা শহীদের সংখ্যা দেখিয়ে কোনো কৃতিত্বও নেওয়া হয়নি। নির্বাচন দাবি না করে শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে থাকাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ৬ আগস্টের পর দেশে চাঁদাবাজি শুরু হলেও তা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সতর্ক করা হলেও কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।শহীদ পরিবারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অনেক পরিবার আর্থিক সহায়তার চেয়ে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এক শহীদের বাবা তাদের দেওয়া আর্থিক সহায়তা গ্রহণ না করে সেটি আরও অসচ্ছল শহীদ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। এই মানসিকতা রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের জন্য শিক্ষণীয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।তিনি বলেন, যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের অধিকাংশই প্রান্তিক ও শ্রমজীবী মানুষ। সরকারি চাকরির কোটার সঙ্গে তাদের কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ ছিল না; তারা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশায় আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা প্রতিশোধ নয়, বিচার চান। শহীদদের হত্যার বিচার একদিন না একদিন অবশ্যই বাংলার মাটিতে হবে এবং এ দাবি থেকে তারা কখনো সরে আসবেন না।তিনি আরও বলেন, গণভোট এবং জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতেও জামায়াতে ইসলামী অনড় থাকবে। সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি এবং বিশ্বাসভঙ্গ করা হয়েছে। তবে এখনও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সঠিক পথে ফিরে আসার সুযোগ রয়েছে।বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, নানা ধরনের ভয়ভীতি, আপসের প্রস্তাব ও প্রলোভন দেওয়া হলেও তারা সবই প্রত্যাখ্যান করেছেন। আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করেন না এবং অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবেন না বলেও জানান তিনি।শেষে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে জীবন দিয়েও জুলাইয়ের চেতনা রক্ষা করা হবে এবং শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।অনুষ্ঠানের শেষদিকে তিনি শহীদদের রূহের মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং তাদের পরিবারের ধৈর্য ও শক্তি কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত