প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬
এনসিপির ওপর হামলায় বিএনপির নীরবতা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থনের ইঙ্গিত: সারজিস আলম
মোঃ রাজিব হোসেন। ||
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় বিএনপির নীরবতা প্রমাণ করে, এসব ঘটনার সঙ্গে দলটির প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ সমর্থন রয়েছে।বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ২টায় সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভা অডিটোরিয়ামে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।সারজিস আলমের অভিযোগ, বিএনপি এনসিপির রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর দমিয়ে রাখতে চায়। তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশে বলেন, এনসিপিকে রাজনৈতিকভাবে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানাতে হবে। অন্যথায় দলটি নিজেদের রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, পেছন থেকে আঘাত করার রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিহার করা প্রয়োজন। তার দাবি, অতীতে আওয়ামী লীগের মধ্যে যে স্বৈরাচারী রাজনৈতিক সংস্কৃতি ছিল, বিএনপি যদি একই পথে এগোয়, তাহলে এনসিপি তার কঠোর প্রতিরোধ করবে।সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে সারজিস আলম বলেন, তিনি একসময় বলেছিলেন, ছাত্রদলে ছাত্রদের দেখতে চান, সন্ত্রাসীদের নয়। সেই বক্তব্যের সূত্র ধরে তিনি তারেক রহমানের উদ্দেশে বলেন, যদি আলাদাভাবে সন্ত্রাসীদের লালন-পালন করতে চান, তাহলে সেটি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিন। তবে ছাত্রদলের মাধ্যমে সন্ত্রাসী তৈরি করা হলে তা ছাত্রদল, বিএনপি এবং তারেক রহমানের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যও ক্ষতিকর হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।জুলাই অভ্যুত্থানে গোলাপগঞ্জের সাত শহীদের কথা উল্লেখ করে সারজিস আলম বলেন, শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাদের প্রিয়জনদের আর কখনো ফিরে পাবেন না। তাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব তাদের যথাযথ সম্মান ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা। আগে সরকারি সেবা পেতে এসব পরিবারকে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হতো, এখন তারা যেন মর্যাদা ও স্বস্তির সঙ্গে সব ধরনের সেবা পান, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।তিনি আরও বলেন, শহীদ পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিন গভীর বেদনা নিয়ে জীবন কাটাচ্ছেন। অনেক সময় তাদের শুনতে হয়, ‘এই আত্মত্যাগের কী দরকার ছিল, সব তো আগের মতোই রয়েছে।’ এমন পরিস্থিতি কাম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।সারজিস আলম বলেন, এনসিপি দেশে একটি স্বাভাবিক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তার ভাষায়, দলটি কারও তোষামোদ করার জন্য গঠিত হয়নি; এটি তরুণ প্রজন্মের কণ্ঠস্বর, যার জন্ম হয়েছে একটি গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে এবং যে আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটেছে।সরকারের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময় সরকারি উদ্যোগে শহীদ দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হলেও সেখানে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। বরং রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিই বেশি দেখা যায়। এছাড়া, বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে গেলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর সমাধান পান না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সারজিস আলম বলেন, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অনেকে আজ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন, সেই শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রাপ্য সম্মান, অধিকার এবং সব ধরনের সরকারি সুবিধা নিশ্চিত করা উচিত।সূত্র: আমার দেশ।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত