প্রিন্ট এর তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬
উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে এখনো বঞ্চিত বিজয়নগরের বড়পুকুর পাড় মালদ্বীপ পাড়া — বর্ষায় নৌকাই একমাত্র ভরসা
জাহিদুল হাসান ইসরাফিল , উপজেলা প্রতিনিধি (বিজয়নগর) ||
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উন্নয়নের জোয়ার বইলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার ৬ নং পত্তন ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের বড়পুকুর পাড় গ্রামের মালদ্বীপ পাড়া এখনো উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে অনেকটাই বঞ্চিত। গ্রামটিতে আরও মানুষ বসবাস করলেও বিশেষ করে মালদ্বীপ পাড়ায় প্রায় ৩০০ মানুষের বসবাস, যারা বছরের পর বছর চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করছেন।এই পাড়ার মানুষের জন্য আজও কোনো স্থায়ী সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। গ্রীষ্মকালে কোনো রকমে খেতের আইল ও মাটির পথ দিয়ে চলাচল করা গেলেও বর্ষা এলেই পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। তখন যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হয়ে ওঠে ছোট ডিঙি নৌকা। কিন্তু প্রয়োজনের সময় সবসময় নৌকা পাওয়া যায় না। ফলে অনেক সময় কোমরসমান পানি পেরিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে শিক্ষার্থীরা। স্কুল ও মাদ্রাসায় যেতে গিয়ে অনেক শিশুকে নৌকায় করে যাতায়াত করতে হয়। মাঝেমধ্যে নৌকা থেকে পড়ে ভিজে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এতে তাদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে এবং অভিভাবকরাও উদ্বেগে থাকেন। কর্মজীবী মানুষেরও প্রতিদিন কর্মস্থলে যেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।এলাকার অধিকাংশ মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষিকাজ ও মাছ ধরা। বর্ষাকালে মাছ শিকার এবং গ্রীষ্মকালে কৃষিকাজ করেই তাদের জীবিকা নির্বাহ হয়। সীমিত আয়ের কারণে অনেকেই নিজের জমিতে মাটি ফেলে বসতঘর নির্মাণ করেছেন। কিন্তু সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প, টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা কিংবা প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর কোনো বাস্তব সুবিধা তারা এখনো পাননি।ধর্মীয় ক্ষেত্রেও রয়েছে অবহেলার চিত্র। পাড়াটিতে একটি মাত্র জরাজীর্ণ মসজিদ রয়েছে, যা স্থানীয়দের সামান্য অনুদানে কোনোমতে টিকে আছে। একটি সুন্দর ও স্থায়ী মসজিদ নির্মাণও এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি।স্থানীয়দের ভাষ্য, স্বাধীনতার এত বছর পরও এই পাড়ার উন্নয়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। রাস্তা, সেতু, শিক্ষা ও ধর্মীয় অবকাঠামোর উন্নয়ন এখন তাদের সবচেয়ে বড় দাবি।বড়পুকুর পাড়ের মালদ্বীপ পাড়া ঘুরে দেখলে মনে হয়, এটি যেন বাংলাদেশের ভেতরেই উন্নয়নবঞ্চিত একটি বিচ্ছিন্ন জনপদ। আধুনিক বাংলাদেশের নাগরিক হয়েও এখানকার প্রায় ৩০০ মানুষ আজও ন্যূনতম যোগাযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত