প্রিন্ট এর তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬
আমিরাতে ৬২৬ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল, নবায়নের জন্য ৪১৭ জনের তালিকা পাঠিয়েছে সরকার
মোঃ রাজিব হোসেন। ||
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ৬২৬ জন বাংলাদেশি কর্মীর ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে (অটো ক্যান্সেল) বাতিল হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪১৭ জনের ভিসা পুনর্নবায়নের (রিনিউ) আবেদন ইতোমধ্যে আমিরাত সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। বাকি ব্যক্তিদের তথ্য-উপাত্ত যাচাই শেষে ধাপে ধাপে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে সরকার।বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, চাকরি হারানোর কারণে যেসব বাংলাদেশি কর্মীর ভিসা বাতিল হয়েছে, তাদের বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও আমিরাতের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে। যাদের চাকরি পুনর্বহাল হবে অথবা নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, তাদের ভিসা পুনর্নবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।তিনি আরও জানান, ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতায় পড়া প্রবাসীদের সহায়তার জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পৃথক হটলাইন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব হটলাইনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের তথ্য সংগ্রহ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইন-কানুন মেনে চলতে হবে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় রাজনীতি, যুদ্ধ কিংবা সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে মন্তব্য বা পোস্ট করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, কয়েকজনের অসচেতন আচরণের কারণে পুরো দেশের শ্রমবাজার এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, জাল বা ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা দেশের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এর ফলে শুধু সংশ্লিষ্ট আবেদনকারী নয়, ভবিষ্যতে বৈধভাবে বিদেশে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিদেরও ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে অভিবাসন আইন, ২০১৩ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন আইনে ভুয়া তথ্য বা জাল নথি ব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রাখার প্রস্তাব রয়েছে।তিনি আরও জানান, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ব্যয় কমানো, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য রোধ এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে সরকার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রথমবারের মতো একটি মাইগ্রেশন উইং গঠন করা হয়েছে, যা বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীদের সমস্যা সমাধান এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে কাজ করবে।
সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত